আইনজীবী বাসেত মজুমদারের জীবন ও কর্ম

সদ্য প্রয়াত সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আবদুল বাসেত মজুমদার ২০১৭ সালে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছিলেন।
২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি দেশের ৫৮টি আইনজীবী সমিতিতে আইনজীবীদের কল্যাণে দুই লাখ টাকা করে অনুদান দিয়েছিলেন। তিনি আইন অঙ্গনে পরিচিতি ‘গরিবের আইনজীবী’ হিসেবে।
ওই সাক্ষাৎকারে আবদুল বাসেত মজুমদার বলেছিলেন, ‘ষাটের দশকের শুরুর দিকে নিজ জেলা কুমিল্লায় পড়ালেখার পাঠ চুকিয়ে ঢাকায় আসি। স্বামীবাগে আত্মীয়ের বাসায় থাকতাম। এক বন্ধুর কথায় চাকরির দরখাস্ত করি। খবরটি আব্বার কানে গেলে হঠাৎ একদিন সকালে তিনি কুমিল্লা থেকে ঢাকায় হাজির। তিনি বললেন, পড়ালেখা বাদ দিয়ে কিসের চাকরি? ঢাকায় থাকতে হলে ওকালতি পড়ো, উকিল হও। আব্বার সে কথায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস ও আইনে পড়ালেখা শেষ করে পুরোদস্তুর উকিল হয়ে গেলাম। কিন্তু আব্বা পরপারে চলে গেলেন। আইন পেশায় আমার সফলতা দেখে গেলেন না’।
আবদুল বাসেত মজুমদারের জন্ম ১৯৩৮ সালের ০১ জানুয়ারি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার শানিচৌ গ্রামে। হরিচর হাইস্কুল থেকে মেট্রিক (এসএসসি), কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট ও বিএ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৬৫ সালে বিয়ে করেন তিনি। স্ত্রী রওশন জাহান মেহেরুন্নেসা। ছেলে গোলাম মহিউদ্দিন আবদুল কাদের ব্যবসায়ী ও সাঈদ আহমদ রাজা আইনজীবী। মেয়ে ফাতেমা আক্তার লুনা রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী ও খাদিজা আক্তার ঝুমা উত্তরা মেডিক্যাল কলেজের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর।
১৯৬৬ সালে হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন আবদুল বাসেত। পর্যায়ক্রমে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, সহ সম্পাদক, সম্পাদক ও সভাপতি নির্বাচিত হন। বার কাউন্সিলেও নির্বাচিত হয়েছেন কয়েকবার।
তার নামে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার আন্দারিপাড়ায় আবদুল বাসেত মজুমদার মাদরাসা ও এতিমখানা এবং গ্রামের বাড়িতে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র আছে।
বুধবার (২৭ অক্টোবর) সকালে স্বনামধন্য এই আইনজীবী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
এসএম