ঢাকা সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Motobad news

বরিশালে ভেঙে গেছে সাঁকো, কলাগাছের ভেলাই ভরসা ৩২ পরিবারের

বরিশালে ভেঙে গেছে সাঁকো, কলাগাছের ভেলাই ভরসা ৩২ পরিবারের
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের খানপুরা-উত্তর রহমতপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩২ পরিবারের চলাচলের একমাত্র বাঁশ-কাঠের সাঁকোটি ভেঙেপড়েছে। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় খাল পারাপারে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রকল্পের বাসিন্দারা। এখন বাধ্য হয়ে কলাগাছের ভেলা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন তারা।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের উপজেলা সদরসহ আশপাশের এলাকায় যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ছিল এই সাঁকো। এটি ভেঙে যাওয়ায় প্রতিদিন শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হতে হচ্ছে। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, বাজারে যাওয়া মানুষ এবং জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া বাসিন্দাদের ভোগান্তিও বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাঁশ-কাঠের সাঁকোটিই ছিল তাদের চলাচলের প্রধান অবলম্বন। কোনোভাবে সেটি ব্যবহার করে খাল পারাপার করতেন তারা। সম্প্রতি সাঁকোটি ভেঙে পড়ায় সেই পথও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কলাগাছের ভেলা তৈরি করে খাল পারাপার ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো সহজ বিকল্প নেই।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা কাওছার মৃধা বলেন, রাজারবের খালের ওপর এই সাঁকোটিই আমাদের ৩২ পরিবারের দ্রুত যাতায়াতের একমাত্র পথ ছিল। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার পর এখন কলাগাছের ভেলা দিয়ে খাল পার হতে হচ্ছে। এভাবে চলাচল করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা প্রয়োজন।

আরেক বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিদিন বাজার, চিকিৎসা, স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়েদের যাতায়াতসহ অন্যান্য প্রয়োজনে আমাদের বাইরে যেতে হয়। সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় এখন কলাগাছের ভেলা দিয়ে রাজারবের খাল পার হতে হচ্ছে। কিছুদিন আগে আশ্রয়ণের এক গৃহিণী ভেলা থেকে পড়ে যান। পরে তাকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ভেলায় করে পারাপারে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা দ্রুত স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানাই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন মুক্তা বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩২টি পরিবারের প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য রাজারবের খালের ওপরের সাঁকোটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভেঙে যাওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এখানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ জরুরি।

রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সুমন সিকদার বলেন, রাজারবের খালের ওপর সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩২টি পরিবারের চলাচলে যে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। বিশেষ করে শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষদের ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হতে হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দ্রুত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর আগে যাতে মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারেন, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা বলেন, আমার কাছে আশ্রয়ণের কয়েকজন বাসিন্দা এসেছিলেন। আমি তাদের কাছ থেকে সাঁকোটির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জেনেছি। বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছি।


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন