ঢাকা মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • ভোলায় ২২ লাখ টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ পটুয়াখালীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দুই পক্ষের হাতাহাতি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ ট্রলারে মিলল ২২০ কেজি হরিণের মাংস, দুই যুবক গ্রেফতার বরিশালে নানা আয়োজনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উজিরপুরে মাদকের গড়ে উঠেছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক পবিত্র কাবা শরীফকে সাক্ষী রেখে বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিলেন আগৈলঝাড়ার সাদ্দাম আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন মেসি ৫ বছরে এক কোটি মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা: প্রতিমন্ত্রী নূর বরিশালে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা
  • ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে যুবসমাজ

    উজিরপুরে মাদকের গড়ে উঠেছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক

    উজিরপুরে মাদকের গড়ে উঠেছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক
    ফাইল ছবি
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    বরিশালের উজিরপুরে মাদক কেনাবেচার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। 

    স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বাজার, বাসস্ট্যান্ড, সড়ক ও নির্জন এলাকাকেন্দ্রিক কারবারের পাশাপাশি মুঠোফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে মাদক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এতে কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ মাদকের ঝুঁকিতে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকেরা।
    থেমে যাচ্ছে যুবসমাজ, হারাচ্ছে মেধা
    মাদকের বিস্তার শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এর প্রভাব পড়ছে পরিবার, শিক্ষা ও সমাজজীবনে। মাদকের কারণে কর্মক্ষম তরুণেরা স্বাভাবিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাঁদের সম্ভাবনা ও মেধা। দীর্ঘ মেয়াদে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সমাজ ও দেশের ওপর।

    সচেতন নাগরিকদের মতে, থেমে যাচ্ছে যুবসমাজ, হারাচ্ছে দেশ; মাদকের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে মেধা ও সম্ভাবনা। তাই মাদকবিরোধী অভিযানকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীল কাজে যুক্ত করার মাধ্যমে মাদকের বিকল্প ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করাও জরুরি।

    মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি যারা ইতিমধ্যে আসক্ত হয়ে পড়েছে, তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের পথ আরও সহজ হবে। আজকের তরুণদের রক্ষা করা মানেই আগামী দিনের দেশকে রক্ষা করা।

    স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চললেও মাদকের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। খুচরা বিক্রেতাদের কেউ কেউ গ্রেপ্তার হলেও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অনেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন বলে তাঁদের দাবি। তবে এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্টতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদক কারবারে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মুঠোফোন ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা হচ্ছে। আগে নির্দিষ্ট কিছু স্থানে কেনাবেচার অভিযোগ থাকলেও এখন অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী মাদক পৌঁছে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে কিশোর-তরুণদের মাদকে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

    পুলিশের সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযানে মাদকসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় উপজেলার মাদক কারবারের চিত্রও সামনে এসেছে। গত জুলাইয়ে কারফা বাজার কলেজ রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৫টি ইয়াবা বড়িসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    এর আগে জুনে উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের মধ্য কেশবকাঠী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন কেজি গাঁজাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর স্বামীকেও মামলায় আসামি করা হয় বলে পুলিশ জানায়।

    জুলাইয়ের শেষ দিকে শোলক ইউনিয়নের পশ্চিম ধামুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক কেজি গাঁজাসহ এক নারী ও এক পুরুষকে আটক করে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

    সচেতন নাগরিকেরা বলছেন, শুধু মাদক উদ্ধার ও খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। মাদকের উৎস, সরবরাহের পথ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।

    গত জুনে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের এক মতবিনিময় সভায়ও উজিরপুরে মাদকের বিস্তার নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে পুলিশের পক্ষ থেকে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা চাওয়া হয়।

    সহকারী পুলিশ সুপার (উজিরপুর সার্কেল) সৌমেন্দ্র কুমার বাইন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। মাদক ব্যবসায়ী কিংবা মাদক কারবারের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকসহ যাঁদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান কঠোর। মাদক কারবারের বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে।


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ