ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বরিশালের ৫ জেলাসহ ৪৩ জেলা, ডুবেছে ১ লাখ ১৪ হাজার হেক্টরের ফসল বরিশালে মাদক মামলায় রোহিঙ্গা তরুণীর ৩ বছরের কারাদণ্ড শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ মেহেন্দীগঞ্জে প্রবেশপত্রের সঙ্গে অসংগতি থাকায় এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারেনি রিপা মুলাদীতে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় সেতুর নিচ দিয়ে চলাচল ২০০ পরিবারের  ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে ইটের টুকরা নিক্ষেপ, তদন্ত করছে পুলিশ বরগুনার ইতিহাসে প্রথম ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল জমজ ৩ বোন শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর পাথরঘাটায় বাজারে আগুন, ৩০ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত   সুন্দরবনে ‘ছোট জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ ডাকাতের আত্মসমর্পণ
  • লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে গরু

    কলাপাড়ায় লাম্পি স্কিনের বিস্তারে কৃষকের দুশ্চিন্তা

    কলাপাড়ায় লাম্পি স্কিনের বিস্তারে কৃষকের দুশ্চিন্তা
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় গবাদিপশুর ভাইরাসজনিত রোগ ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ (এলএসডি) উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ, মশা-মাছির বিস্তার এবং ভ্যাকসিন সঙ্কটের কারণে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। সাপ্তাহিক পশুর হাটকে কেন্দ্র করে রোগটির সংক্রমণ আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা। দিনে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে উপজেলায় অন্তত ২০০টি গরু মারা গেছে। এতে গরু পালনকারীরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। 

    পশুচিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলা জানা গেছে, গরুর লাম্পি স্কিন ভাইরাসজনিত রোগ। এখন পর্যন্ত এ রোগের কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। এ রোগে আক্রান্ত গরুর শরীরে প্রথমে জ্বর দেখা দেয় এবং খাবারের রুচি কমে যায়। জ্বর বেশি হলে নাক-মুখ দিয়ে লালা বের হয়, পা ও গলা ফুলে যায়। 

    আক্রান্ত গরুর বুকের নিচে দুই পায়ের মাঝে পানি জমে। গরুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে চামড়ায় গুটি গুটি ক্ষত হয় এবং পচন ধরে। সেই সঙ্গে চামড়া থেকে লোম উঠে যায়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা নেওয়া শুরু করলে এ রোগে আক্রান্ত পশুর সুস্থ হতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। বড় গরু লাম্পি স্কিন রোগে তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে থাকলেও বাছুর–গরু আক্রান্ত হলে দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মৃত্যু ঝুঁকি বেশি থাকে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল চত্বরে এলএসডি রোগ নিয়ন্ত্রনে প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন কিন্তু প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে কোন ওষুধ দেয়া হয় না। বলে ওষুধ নেই। আপনারা বাহির থেকে ত্রয় করে চিকিৎসা দেন।

    সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অসংখ্য গবাদিপশু ইতোমধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। অনেক খামারি ও গৃহস্থ পশুর শরীরে গুটি, ক্ষত ও জ্বরের উপসর্গ দেখা দেয়ার পর উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্ত পশুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় খামারিদের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে।
    প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এলএসডি একটি অতি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত গরু, মহিষ ও ছাগলকে আক্রান্ত করে। 

    এ রোগে আক্রান্ত পশুর শরীরে গুটি, জ্বর, পা ফুলে যাওয়া, খাদ্যে অনীহা এবং দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। ফলে খামারিদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। 

    জানা যায়, ১৯২৯ সালে আফ্রিকার জাম্বিয়ায় প্রথমে এ রোগ শনাক্ত হয়। বাংলাদেশে ২০১৯ সালে প্রথম চট্টগ্রাম অঞ্চলে রোগটির উপস্থিতি ধরা পড়ে। এরপর ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন জেলায় এটি বিস্তার লাভ করে এবং বর্তমানে গবাদিপশু খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা জানান, মশা, মাছি ও অন্যান্য রক্তচোষা কীটপতঙ্গের মাধ্যমে এ রোগ দ্রুত ছড়ায়। এ ছাড়া আক্রান্ত পশুর লালা, খাবার, ব্যবহৃত সামগ্রী এবং একই সিরিঞ্জ একাধিক পশুর শরীরে ব্যবহার করলেও সংক্রমণ ঘটতে পারে। আক্রান্ত ষাঁড়ের বীর্য প্রজননে ব্যবহার করলেও ঝুঁকি থাকে। আক্রান্ত পশুকে দ্রুত আলাদা করে রাখতে হবে এবং মশারি ব্যবহার করে মশা-মাছির সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখতে হবে। খামার ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আক্রান্ত পশুর খাবার ও পানির পাত্র সুস্থ পশুর সাথে ব্যবহার করা যাবে না। আক্রান্ত গাভীর দুধ বাছুরকে না খাওয়ানোরও পরামর্শ দেন তিনি। 

    ধুলাসার ইউনিয়নে নয়াকাটা গ্রামের কামাল হাং জানান, তার একটার বাচুর গরু শরিরের বিভিন্ন জায়গা শরীরে গুটি, ক্ষত ও জ্বরের উপসর্গ দেখা। এর পর বাচুরকে গ্রাম থেকে ভ্যানের মাধ্যমে উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের পরামর্শ ত্রুমে বাচুরকে চিকিৎসা দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাচুরকে বাচাঁনো যায়নি। 

    একই অবস্থা দরিদ্র শাকিল মিয়া। গরু লালনপালন করে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা খোঁজা প্রান্তিক এই মানুষগুলো অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন। বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়তই আক্রান্ত হচ্ছে নতুন নতুন গরু। ভাইরাসজনিত রোগের সংক্রমণে গরু নিয়ে বিপাকে তারা। 

    উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মারুফ বিল্লা খাঁন জানান,  সরকার এ রোগের জন্য এথন ও কোন ওষুধ তৈরি করতে পারেনি। এ রোগটি বেশি ভাগ গরমের সময় বেশি দেখা যায়। শীতের সময় প্রকোপটি কম থাকে এজন্য খামারিদের আমরা পরামর্শ দিয়ে থাকি টিকা দেওয়ার জন্য। সাপ্তাহিক পশুর হাটকে কেন্দ্র করে রোগটির সংক্রমণ আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা।
     


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ