ঢাকা রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

Motobad news

ভোলার মেঘনায় ডাকাত আতঙ্ক, ভয়ে নদী ছাড়ছেন জেলেরা

ভোলার মেঘনায় ডাকাত আতঙ্ক, ভয়ে নদী ছাড়ছেন জেলেরা
ছবি: সংগৃহীত 
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

ভোলার বোরহানউদ্দিনে মেঘনা নদীতে বেড়েছে সশস্ত্র ডাকাত দলের উপদ্রব। এতে উপকূলীয় প্রায় ৪০ হাজার জেলের জীবন-জীবিকা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। গত কয়েক দিনে ট্রলারে হামলা, দুর্ধর্ষ ডাকাতি এবং অস্ত্রের মুখে জেলে অপহরণের ঘটনায় নদীজুড়ে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী জেলেরা বলছেন, রাতের আঁধারে ডাকাতদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে প্রাণের ভয়ে তারা সন্ধ্যার পর মাছ শিকারে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেঘনায় কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশের নিয়মিত টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মৎস্যজীবীরা।

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১১ জানুয়ারি রাতে হাকিমউদ্দিন মৎস্য ঘাট এলাকায় তিনটি ট্রলারে দুর্ধর্ষ ডাকাতি এবং আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে চার জেলেকে অপহরণের ঘটনায় নদীজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অপহরণের পর কয়েক দফায় প্রায় দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে জেলেরা ফিরে আসলেও প্রাণের ভয়ে সন্ধ্যার পর নদীতে নামতে সাহস পাচ্ছেন না অধিকাংশ মৎস্যজীবী। বর্তমানে নদীতে ইলিশের দেখা মিললেও ডাকাতদের দৌরাত্ম্যে রাতে মাছ শিকার বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ১৯ হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত জেলেসহ সংশ্লিষ্ট আড়তদারেরা।

জয়া গ্রামের জেলে মহিউদ্দিন মাঝি জানান, ডাকাতরা তাকেসহ ৪ জনকে অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং চোখ বেঁধে বেদম মারধর করে। পরে আড়তদারের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তিনি রক্ষা পান। একইভাবে রাসেল মাঝি জানান, ওই রাতে তিনটি ট্রলার থেকে অপহৃত জেলেরা প্রায় দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছেন।

একই এলাকার জেলে মো. শাহিন মাঝি ও মিজান মাঝি জানান, বর্তমানে মেঘনা নদীতে কিছুটা ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করেছে। দিনের চেয়ে রাতেই মাছের পরিমাণ বেশি পাওয়া যায়। কিন্তু ডাকাতের ভয়ে আমরা জেলেরা সন্ধ্যার পরে নদীতে যেতে ভয় পাই। কারণ, গত কয়েক দিন আগে আমাদের ৪ জেলেকে ডাকাতরা অপহরণ করে মুক্তিপণ দিয়ে ছেড়েছে।

তারা আরও জানান, আমাদের পরিবার থেকেও নদীতে যেতে বারণ করা হচ্ছে। কিন্তু কি করবো, নদীতে না গেলে খাবো কি? অন্য কোনো কাজও জানি না।

বেলাল মাঝি ও রুহুল আমিন মাঝি জানান, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ যদি সন্ধ্যার পরে নদীতে টহল কার্যক্রম রাখে তাহলে দিনে মতো রাতেও আমরা নিরাপদে মাছ ধরতে পারবো।

তবে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের স্টাফ অফিসার অপারেশন লে. কমান্ডার মাহবুব হোসেন জানান, মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে সম্প্রতি ডাকাতির ঘটনার পর থেকে আমাদের টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। ডাকাতদের গতিবিধি শনাক্তে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে গোয়েন্দা নজরদারীও জোরদার করা হয়েছে। জেলে ও মৎস্যজীবীদের সঙ্গে কথা বলে ডাকাত চক্রের তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ৯টি ইউনিয়নের জেলে রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার। এর মধ্যে সরকারিভাবে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৯ হাজার ৮৩৮ জন।


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন