ঢাকা মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম

ঈদ আনন্দ নেই ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোতে

ঈদ আনন্দ নেই ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোতে
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই খুশির ঈদ। কিন্তু ঈদ আনন্দ নেই দক্ষিণাঞ্চলের অর্ধশত পরিবারে। যাদের ঈদ আনন্দ কেড়ে নিয়েছে কালবৈশাখী ঝড়। মাত্র ১৫ মিনিটের এ ঝড়ে উড়িয়ে নিয়েছে তাদের শেষ সম্বল বসতঘর। প্রাণ হারিয়েছেন ৮ জন। 
ঈদের আগ মুহ‚র্তে বাড়িঘর হারিয়ে আশ্রয়হীন মানুষগুলোর মাথা গোজার ঠাঁই হয়েছে ঘুপরী ঘর অথবা প্রতিবেশির ঘরে। অথচ কালবৈশাখীর তান্ডবের ২৬ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও সরকারি সাহাজ্য সহযোগিতা পৌঁছেনি অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে। এমনকি মানবিক সহায়তা নিয়ে যাননি কোন জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক নেতারা।


তবে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের জেলা এবং উপজেলা প্রশাসন। তবে এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সাহয্য-সহযোগিতার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্ব স্ব জেলার জেলা প্রশাসকরা। তারা জানিয়েছেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির পর চ‚ড়ান্তভাবে সহযোগিতা করা হবে।
জানা গেছে, ‘গত ৭ এপ্রিল রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানে কালবৈশাখী ঝড়। মাত্র ১৫ মিনেটের এ ঝড় এবং বজ্রপাতে বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলায় মোট ৮ জন নিহত হয়। এর মধ্যে ঝালকাঠিতে তিনজন, পটুয়াখালীতে দুইজন, পিরোজপুরে একজন ও ভোলায় দুইজন। এছাড়া গাছপালা ভেঙে এবং প্রবল বাতাসে বিধ্বস্ত হয় বাড়ি-ঘর। তাছাড়া তাড় ছিড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। তবে গত দুই দিনেও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করতে পারেনি জেলা এবং উপজেলা প্রশাসন।


জানা গেছে, ‘ঝড়ের পর রাস্তায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় নাজিরপুর ইউনিয়নের রায় তাঁতের কাঠি গ্রামের জহির সিকদারের ছেলে রাতুলকে (১৪)। আর ঘরের মধ্যে গাছের নিচে চাপা পড়ে মারা যান দাশপাড়া ইউনিয়নের চরআলগী গ্রামের মৃত আহম্মেদ প্যাদার স্ত্রী বৃদ্ধা সুফিয়া বেগম (৮৫)। রোববার সন্ধ্যার মধ্যেই তাদের দাফন হয়েছে পারিবারিক গোরস্থানে।


সরেজমিনে দেখা যায়, দুটি পরিবারেই চলছে শোকের মাতম। মৃত স্বজনেরদ স্মৃতি স্মরণকারে বারবার মূর্চ্ছা যাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। ঈদের আনন্দ নেই একটি পরিবারেও।
অপরদিকে, ‘কালবৈশাখীতে সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দ্বীপ জেলা ভোলার মনপুরা, তজুমদ্দিন এবং লালমোহন উপজেলায়। ধারণা করা হচ্ছে, তিনটি উপজেলায় দুই শতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোমবার দুপুরে তুজমিদ্দনের শম্ভুপুরে দেখা যায়, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত টিনের ঘরে চালা মেরামতের চেষ্টা করছেন সামছুল আলম বেপারী নামের একজন কৃষক।
ঝড়ের সময় গাছ ভেঙে পড়ে ঘরের চালা ভেঙে গেছে বলে জানান তিনি। বর্তমানে তাঁর পরিবারের ছয়জন সদস্য প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। সেই বাড়িতে থেকেই রাতে সেহ্রি এবং আগের দিন ইফতার করেছেন। তবে দুই দিনেও সরকারি এমনকি কোন জনপ্রতিনিধিও তাদের খোঁজ-খবর নিতে আসেনি দাবি এই কৃষকের। এমন অভিযোগ শুধু সামছুল আলমের একার নয়, এই উপজেলার অধিকাংশ মানুষের অভিযোগ একই।


তবে তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুভ দেবনাথ বলেন, ‘রোববার ঝড়ের পর পরই প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের একটি তালিকা করা হয়েছে। সোমবার সেই তালিকা যাচাই-বাছাই করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ঈদের আগেই ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেয়ার কথা বলেন তিনি।
ভোলা জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামান বলেন, ‘তাঁর জেলায় ঝড়ে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা সহায়তা করা হয়েছে। তবে অপরজনের স্বজনদের খোঁজ না পাওয়ায় সরকারি খরচে তার সৎকার করা হয়েছে।


তিনি বলেন, ‘ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ২১ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। আমাদের কাছে বর্তমানে একশ বান্ডেল ঢেউটিন আছে। এগুলো মঙ্গলবারের মধ্যে ক্ষতিস্তদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। তবে তিনটি উপজেলার মধ্যে সব থেকে ক্ষতি হয়েছে মনপুরা উপজেলায়। এ কারণে সেখানকার মানুষদের খাবার এবং সহায়তার জন্য উপজেলা প্রশাসনকে ৫০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।


অপরদিকে, ‘পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মো. জাহেদুর রহমান জানিয়েছেন, ‘ঝড়ে তাঁর জেলায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ জনকে রোববার ঝড়ের পর পরই সুকনো খাবার এবং ২০টি পরিবারকে ২ বান্ডেল করে ঠেউটিন দেয়া হয়েছে। এরপরও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। কেউ বাদ পড়লে তাকেও সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে।


তবে এখনো ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা চ‚ড়ান্ত হয়নি বরগুনা, পটুয়াখালী এবং ঝালকাঠি জেলায়। তবে এসব জেলায় ঝাড়ে মৃত্যু হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তালিকা তৈরির পর ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. নূর কুতুবুল আলম।
তিনি বলেন, ‘তার জেলায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের যতদ্রæত সম্ভব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা করতে বলেছি। তালিকা পেলে ঈদের আগেই তাদের চাল, ঢেউটিন এবং প্রয়োজনে অর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেয়া হবে।


উল্লেখ্য, রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দক্ষিণাঞ্চলের উপক‚লীয় এলাকা ভোলা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরগুনায় আঘা হানে কালবৈশাখী ঝড়। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী ঝড়ের স্থায়িত্ব ছিল প্রায় ১৫ মিনিট।
 


এমএন
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ