বরিশালে ১১ বছর পর চারুকলা ও উদীচীর সম্মিলিত আয়োজন

দীর্ঘ ১১ বছর পরে আবারও এক প্লাটফর্মে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করবে বরিশালবাসী। এ বছর হবে না পাল্টাপাল্টি মঙ্গল শোভাযাত্রা। চারুকলা আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করবে উদীচীসহ সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। আর উদীচীর বৈশাখ উৎসবে সহযোগিতা করবে চারুকলা।
বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর আহ্বানে নিজেদের মধ্যে বিরোধ মিটিয়ে পহেলা বৈশাখ পালনে এক প্লাটফর্মে এসে দাঁড়িয়েছে সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী এবং চারুকলা।
চারুকলা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তাছাড়া যৌথভাবে পহেলা বৈশাখের প্রধান আকর্ষণ মঙ্গল শোভাযাত্রা করার কথা স্বীকার করেছেন উদীচী বরিশাল শাখার সভাপতি সাইফুর রহমান মিরণ।
চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজক সমন্বয়ক চন্দ্রশেখর রায় বাবুল ও দুর্জয় সিংহ স্বাক্ষরিত খবর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘প্রতিবছরের ন্যায় এবারেও চারুকলা বরিশাল, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে নববর্ষের প্রধান আকর্ষণ মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে।
এবারে বরিশাল সিটি কররেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর আহ্বানে ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ সকাল আটটায় ব্রজমোহন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে উদীচী ও বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সহযোগিতায় একটি মাত্র মঙ্গলশোভাযাত্রা বের হবে। শোভাযাত্রাটি অশ্বিনী কুমার হল প্রাঙ্গণে শেষ হবে।
ব্রজমোহন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ৩২তম মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। আগে বীরমুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা, গুনীজন সম্মাননা শেষে, বরাবরের মতো রাখি পড়িয়ে উৎসবের শুভ সূচনা হবে। এবারে যুদ্ধ থেকে পরিত্রাণ পেতে শান্তির আকূতি নিয়ে শোভাযাত্রায় শান্তির পায়রা, চিরায়ত গ্রামীণ সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হিসেবে টেরাকোটা ঘোড়া, মযূরপঙ্খীসহ গ্রামীণ জীবন যাপনের নানা প্রতিকৃতি থাকবে। এছাড়া মুকুট টোপর, পাখা ও বিভিন্ন মুখোশ শোভা পাবে।
শোভাযাত্রার রুট :
শোভাযাত্রাটি সকাল আটটায় ব্রজমোহন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে উত্তর মল্লিক রোড হয়ে অমৃত লাল দে সড়ক (হাসপাতাল রোড), বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর রোড (সদর রোড), গীর্জামহল্লা, চকবাজার, লাইন রোড, হয়ে সদর রোড অশ্বিনী কুমার হল প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা হস্তান্তরের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে।
পহেলা বৈশাখ বরণে বরিশালে মঙ্গল শোভাযাত্রা অন্যতম একটি উৎসব। প্রতি বছর এখানে হাজার হাজার নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন এই শোভাযাত্রায়। তবে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজক সংগঠন চারুকলা এবং উদীচীর মধ্যে বিরোধের কারণে গত ১১ বছর ধরে পাল্টাপাল্টিভাবে মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়ে আসছিল। তবে এবার ১১ বছর পরে পুনরায় যৌথভাবে মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশসসা কুড়াচ্ছে।
উদীচী বরিশাল জেলার সভাপতি সাইফুর রহমান মিরণ বলেন, ‘দুই সংগঠনই বৈশাখ বরণে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। অনুষ্ঠামালা অনুযায়ী একটার পর একটা কর্মসূচি পালন হবে। কর্মসূচির মধ্যে রাখি বন্ধন, ঢাক উৎসব এবং বৈশাখী মেলাসহ সকল আয়োজনই থাকবে। এছাড়া অশ্বিনী কুমার হলে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চিত্রাংকন ও লোকজ সংস্কৃতি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন চারুকলা সংগঠকরা।
টিইউ