বরিশালে মিষ্টির দোকানে বিক্ষুব্ধদের ভাঙচুর, পুলিশসহ আহত ৭, থানা ঘেরাও

খাবারের মূল্য ১০ টাকা বেশি রাখার প্রতিবাদ করায় ক্রেতাকে মারধরের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী এবং জনতা ভাঙচুর করেছে ঘোষ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার নামের একটি মিষ্টির দোকান।
এসময় দোকানের মধ্যে অবরুদ্ধ ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করতে পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছে। একই সময় বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় পুলিশের দুই এসআই আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।
মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে নগরীর লঞ্চঘাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
এর পরপই ক্রেতাকে মারধর ও প্রতিবাদকারীদের ওপর লাঠিচার্জের প্রতিবাদে কোতয়ালী মডেল থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে বিক্ষুব্ধরা। পরে মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শী নগরীর হাটখোলা এলাকার ব্যবসায়ী মো. জামাল উদ্দিন জানান, ‘লঞ্চঘাট সংলগ্ন হাজি মোহাম্মদ মহসিন মার্কেটের পোশাক ব্যবসায়ী সৌরভ ঢালী প্রতিদিনের ন্যায় মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে পার্শ্ববর্তী ঘোষ মিষ্টান্নভাণ্ডারে দই-চিরা খান। পরে দোকানিকে একশত টাকার নোট দিলে তিনি ৪০ টাকা দাম রাখেন।
হামলার শিকার সৌরভ ঢালী বলেন, ‘আগের দিন একই দোকান থেকে ৩০ টাকায় দই চিরা খেয়ে আসছি। আজ হঠাৎ করে ৪০ টাকা কেন রাখা হলো সে বিষয়ে ঘোষ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিক স্বপন ঘোষের কাছে প্রশ্ন করি। এতে তিনি ক্ষেপে গিয়ে আমাকে মারধর এবং মুখে আঘাত করে। তখন এক দোকান কর্মচারী কাটা চামুচ দিয়ে আমাকে আঘাতের চেষ্টা করলে আমি পাশে সরে যাই।
এদিকে, ঘটনার পরে সৌরভ বিষয়টি মহাসিন মার্কেটের অন্যান্য ব্যবসায়ী এবং স্থানীয়দের জানান। এর পরপরই তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘোষ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে ভাঙচুর করে মালিক স্বপন ঘোষকে ভেতরে অবরুদ্ধ করে।
পুলিশের লাঠিচার্জে মাথায় রক্তাক্ত জখম হওয়া স্থানীয় হেলাল বলেন, ‘ঘোষ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিক স্বপন ঘোষ সৌরভ নামের ক্রেতাকে মারধর করে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে দোকানির বিচার চেয়ে বিক্ষোভ করেছি।
তিনি বলেন, পুলিশ হামলাকারীর বিচার না করে উল্টো আমাদের মারধর করে দোকান মালিককে নিরাপত্তা দিয়ে থানায় নিয়ে আসে। সাধারণ জনতার ওপর লাঠিচার্জ করেছে। এতে আমার মাথা ফেটে গিয়ে রক্ত ঝড়েছে। আমি ছাড়াও মিজানুর রহমান, মো. জামাল উদ্দিন এবং রাসেলসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘হামলাকারী এবং জনতার ওপর লাঠিচার্জের বিচার দাবিতে আমরা কোতয়ালী মডেল থানার সামনে গেলে সেখানেও আমাদের ওপর থানার ভেতর থেকে ইট নিক্ষেপ এবং অকথ্য ভাষায় গালি দেয়া হয়েছে।
আমরা এর বিচার চেয়ে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছি। হামলাকারী ঘোষ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিক স্বপন ঘোষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
অপরদিকে, ঘটনার পর পরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোতয়ালী মডেল থানার বাইরে লাইন রোডে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এসময় তিনি হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে জানিয়ে তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবেন বলে বিক্ষুব্ধদের প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি পুলিশের হামলার বিষয়টিও তদন্ত করে দেখবেন বলে আশ্বস্থ করেন।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ফজলুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাত্র ১০ টাকা বেশি রাখা নিয়ে ক্রেতা এবং দোকানির মধ্যে মারামারি হয়েছে। এজন্য বিক্ষুব্ধরা ঘোষ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার নামের মিষ্টির দোকান ভাঙচুর করেছে।
তিনি বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে হামলাকারী দোকানিকে আটক এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তখন বিক্ষুব্ধরা পুলিশের ওপর হামলা এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের দুই এসআই শিহাব এবং সেলিম সরদার আহত হয়েছে। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এইচকেআর