নগরীর ৯০ হাজার পরিবারে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি শুরু ২৮ জুন

অবশেষে ঈদ উপলক্ষে বরিশাল সিটিতেও শুরু হচ্ছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) পণ্য বিক্রি কার্যক্রম। আগামীকাল ২৮ জুন থেকে বরিশাল সিটি এলাকায় ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু করা হবে। এরি মধ্যে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে ৯০ হাজার ফ্যামিলি কার্ড প্রস্তুত করেছে সিটি কর্পোরেশন। আগামী ৫ জুলাইয়ের মধ্যে ৯০ হাজার পরিবারে টিসিবি’র পণ্য পৌঁছে দিবেন তারা। এমনটিই জানিয়েছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এবং ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, ‘নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থা টিসিবি’র মাধ্যমে ন্যায্য মূল্য ভোক্তা পর্যায়ে পণ্য-সামগ্রী বিক্রি করছে সরকার। বাজারের তুলনায় টিসিবি’র পণ্যের মূল্য কম এবং মানসম্পন্ন হওয়ায় টিসিবি’র ট্রাকের পেছনে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। তবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে পণ্য বিক্রি নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। এ কারণে ফ্যামিলি কার্ডে পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নেয় সরকার।
টিসিবি বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, ‘সবশেষ গেলো রোজার ঈদের পূর্বে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি করা হয়। পরবর্তীতে বন্ধ থাকলেও আসন্ন কোরবানীর ঈদ উপলক্ষে গত ২২ জুন থেকে পুনরায় পণ্য সামগ্রী বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি। বরিশাল জেলাসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে ২২ জুলাইয়ের পর পরই। শুধুমাত্র বরিশাল সিটিতে টিসিবি’র কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি।
তিনি বলেন, ‘বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় পণ্য বিক্রি আপাতত বন্ধ রয়েছে। কেননা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড হয়নি। তবে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিয়ে প্রথমবারের মতো ৩০টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড করছে। কার্ড ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার পরে আশাকরছি দুই একদিনের মধ্যে বরিশাল সিটিতেও আমরা টিসিবি’র কার্যক্রম শুরু করতে পারবো। এ লক্ষ্যে সিটি এলাকায় জন্য আমাদের ৫২ জন ডিলার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস জানিয়েছেন, ‘আমাদের ফ্যামিটি কার্ড তৈরির কার্যক্রম শেষ হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডে ৯০ হাজার কার্ড আমরা তৈরি করেছি। এখন কার্ডগুলো পৌঁছে দিতে হবে। আগামী ২৮ জুন থেকে ৫ জুলাই’র মধ্যে কার্ড বিতরণ শেষ করা হবে। টিসিবি চাইলে ২৮ জুন থেকেই ভোক্তা পর্যায়ে পণ্য সামগ্রী বিক্রি শুরু করতে পারবে।
উল্লেখ্য, ‘টিসিবি’র মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে সয়াবিন তেল, চিনি, পেঁয়াজ এবং মশুর ডাল বিক্রি করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রতি লিটার সয়াবিন ১১০ টাকা, চিনি প্রতি কেজি ৫৫ টাকা, মশুর ডাল প্রতি কেজি ৬০ টাকা ও পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এমইউআর