বিপদগ্রস্ত নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় সরকারি নানান উদ্যোগ
.png)
ছাহেরা খাতুন। চেহারার বলিরেখা বলে দেয় বয়স ৯০ এর কম নয়। পরিবারের সকলকে হারিয়ে ঠাঁই নিয়েছিলেন একমাত্র নাতির কাছে। কিন্তু শেষ আশ্রয় জোটেনি সেখানে। গত ২৯ মে রাতে নগরীর সিএন্ডবি রোডের একটি দোকানের সামনে তাকে রেখে আসে ওই পরিবার। অসহায় অবস্থায় পরে থাকা বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে পুলিশ। পৌঁছে দেয়া হয় কোতয়ালী মডেল থানাধীন ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে। সেখানে দীর্ঘদিনের পরিচর্যায় যেন স্বস্তি খুঁজে পান ছাহেরা খাতুন। পরে তার আবাসনের ব্যবস্থা করে দেয়া হয় বৃদ্ধাশ্রমে।
ছাহেরার মতো বরিশালে নির্যাতনের শিকার বা বিপদগ্রস্ত নারী ও শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছে নগর পুলিশ পরিচালিত ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারটি। সেবাপ্রার্থীদের জন্য এখানে আছে পাঁচ দিন পর্যন্ত আবাসিক থাকা, খাওয়ার ব্যবস্থা। প্রয়োজনভেদে ভিকটিমদের দেয়া হচ্ছে আইনী ও চিকিৎসা সেবা। হারিয়ে যাওয়া শিশুদের দ্রুততম সময়ে বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার কাজও করেন তারা। কেন্দ্রে অবস্থানকালে এসব শিশুদের জন্য রয়েছে বিনোদনের নানান সুবিধা। কেন্দ্রটির দেয়া তথ্য মতে, চলতি বছর এখানে সেবা পেয়েছেন ২৭ নারী ও ২৫ শিশু।

নির্যাতনের ফলে অসুস্থ হয়ে পড়া নারী ও শিশুদের বিশেষ সেবা দিচ্ছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি)। বিনামূল্যে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি দেয়া হয় আইনসংক্রান্ত নানান সুবিধাও। চলতি বছরে এখানে উপকারভোগীর সংখ্যা ২০৮। যার মধ্যে বেশীরভাগেরই বয়স ১৪ থেকে ১৮। কার্যক্রমটির তত্ত্বাবধায়নে আছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। শিশু বিবাহ বন্ধ, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ এবং নির্যাতিত নারী ও শিশুকে তাত্ক্ষনিক উদ্ধারে চালু আছে একই মন্ত্রণালয়ের হটলাইন ১০৯ নাম্বারটি। কোন টোল (খরচ) ছাড়াই এখানে কথা বলা যাবে যেকোন মুহুর্তে।
অন্যদিকে, সরকারের শিশু আইন অথবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় আদালতের সংস্পর্শে আসাদের আবাসন, শিক্ষাসহ সার্বিক জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিতে কাজ করছে বরিশাল জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের ‘সেফ হোম’। নগরীর আমতলার মোড়ে এ আবাসন কেন্দ্রে বর্তমানে সেবা পাচ্ছে ৫১ কিশোরী। এছাড়া নানান প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পরে যৌনকর্মের পেশায় জড়িয়ে পরেছে এমন ১৮ বছর বা তার নিচের কিশোরীদের পূনর্বাসন করে সমাজের মূলস্রোতে নিয়ে আসছে অধিদপ্তরটি।
সমাজসেবা বরিশাল জেলার উপ পরিচালক আল মামুন তালুকদার মতবাদকে বলেন, ‘কিশোরীদের পূনর্বাসনের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের বিষয়ে আমরা বেশী জোর দিচ্ছি। আমাদের কাছে আসা অধিকাংশ কিশোরীই এখন কর্মে নিয়েজিত। যারা পরিবার হারিয়ে আদালতের মাধ্যমে এখানে আসে। তাদেরকে আমরা পরিবার খুজে ফেরৎ দেই।’ জাগুয়া এলাকায় কালিজিরা ব্রিজ সংলগ্নে অবস্থিত সামাজিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ ও পূনর্বাসন কেন্দ্রে বর্তমানে অবস্থান করছে ৩৬ কিশোরী।
নির্যাতনের শিকারদের সহায়তায় সরকারি এসব উদ্যোগ সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে ধারনা কম। এ বিষয়ে আরো ব্যাপক প্রচার প্রচারণার উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশিষ্টজনেরা। সচেতন নাগরিক কমিটির জেলা সভাপতি শাহ্ সাজেদা বলেন, ‘সরকারের কাছে আমি বলবো একদম প্রত্যন্ত পর্যায় থেকে উচ্চস্তর পর্যন্ত যাতে সরকারি এই সেবা সম্পর্কে জানতে পারে-সেই ব্যবস্থা যেন নেয়া হয়।’
এমইউআর