পদ্মা সেতুকন্দ্রিক যাত্রীসেবা দিবে বিআরটিসি

আগামী ২৫ জুন সকালে ১০টায় বহুল প্রতিক্ষীত পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পরদিন রোববার সকাল থেকেই যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটি। ফেরিকে অতীত দুঃসহ স্মৃতিকে পেছনে ফেলে ওই দিন থেকেই ছোট-বড় যানবাহনে প্রমত্তা পদ্মা পাড়ি দেবে দেশের মানুষ ।
পদ্মা সেতু চালুর পর দিন অর্থাৎ ২৬ জুন (রোববার) থেকেই দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় যাত্রীসেবা দেয়া শুরু করবে রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ করপোরেশন (বিআরটিসি)।
যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে উন্নতমানের ‘এসি বাস’ সার্ভিস দিয়েই এই চালু করতে চায় বিআরটিসি। দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ করতে প্রথম দিন থেকেই ৬৭টি এসি বাস দিয়ে পরিবহণ সেবা চালু করবে বিআরটিসি। এরই মধ্যে সংস্থাটি প্রাথমিক রুটম্যাপ তৈরি করেছে। রোব-সোমবারের (১৯ ও ২০ জুন) মধ্যেই রুট ম্যাপ চূড়ান্ত করা হবে।
২৬ জুন (রোববার) থেকেই ঢাকা থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে উন্নত যোগাযোগ চালু করার সকল প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বিআরটিসি। রাষ্ট্রীয় এই পরিবহণ সংস্থাকে একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থেকেই এই বাস সার্ভিস চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিআরটিসির পরিচালন (অপারেশন) বিভাগের তথ্য অনুসারে, বর্তমানে ফেরি পারাপারের মাধ্যমে ঢাকা থেকে খুলনা ও যশোর—এ দুটি পথে ১৬ থেকে ১৭টি বাস চলাচল করে। আর বরিশাল থেকে মাদারীপুরের কাওড়াকান্দি পর্যন্ত ১৫টি বাস চলাচল করছে। এগুলো ফেরি পার হয়ে ঢাকায় আসে না। পদ্মা সেতু চালু হলে এ বাসগুলো বরিশাল থেকে ঢাকা পর্যন্ত চালুর পরিকল্পনা আছে। এর বাইরে ঢাকা থেকে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, পিরোজপুরসহ অন্যান্য জেলাতেও বাস চালু করা হবে।
বর্তমানে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ১৯৬টি পথে বিআরটিসির বাস চলাচল করছে। এর বাইরে কলকাতা ও আগরতলা পথেও সংস্থাটির বাস চলে। সব মিলিয়ে সংস্থাটির সচল বাসের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০–এর মতো।
বিআরটিসি সূত্র জানিয়েছে, শুরুতেই ঢাকার গুলিস্তান থেকে পদ্মা সেতু হয়ে দেশের দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিআরটিসির এসি বাস সার্ভিস চালু করা হবে। তবে চাহিদার প্রেক্ষিতে এটি মিরপুর, জোয়ারসাহারা ও কল্যাণপুর বিআরটিসি ডিপো থেকেও ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিআরটিসির কর্তৃপক্ষের। তবে সব কিছু নির্ভর করছে যাত্রীদের চাহিদার উপর।
বিআরটিএ সূত্র জানায়, গাবতলী থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী বাসের অনেক কোম্পানি পদ্মা সেতু হয়ে বাস চালাতে আগ্রহ দেখিয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তাদের ঢাকা শহরের ওপর দিয়ে চলতে হবে। এখন পর্যন্ত বিআরটিএতে এ বিষয়ে আবেদন পড়েনি। বর্তমানে মাওয়া হয়ে ১৩টি পথে বেসরকারি কোম্পানির বাস চলাচলের অনুমতি আছে।
সরকার নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী কিলোমিটার প্রতি ভাড়ার হার নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। আগে ঢাকা থেকে মাওয়া ফেরি ঘাট পর্যন্ত যে গাড়িটি খুলনার যাত্রীদের নিয়ে যেত সেগুলো থাকছেই। পদ্মা সেতু হয়ে খুলনা-বরিশাল এবং ঢাকা বিভাগের বেশ কয়েকটি জেলার সঙ্গে সরাসরি বাস যোগাযোগ চালু করবে বিআরটিসি। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) পদ্মা সেতুর উপর দিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৩ রুটের বাস ভাড়া নির্ধারণ করেছে।
বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়া ও রুট হচ্ছে—
ঢাকা-ভাঙ্গা-মাদারীপুর-বরিশালের ভাড়া ৪১২ টাকা, ঢাকা-রাজৈর-গোপালগঞ্জের ভাড়া ৫০৪ টাকা, ঢাকা-গোপালগঞ্জ-খুলনার ভাড়া ৬৪৯ টাকা, ঢাকা-জাজিরা-শরীয়তপুরের ভাড়া ২১৮ টাকা, ঢাকা-বরিশাল-পিরোজপুরের ভাড়া ৫৩৪ টাকা, ঢাকা-গোপালগঞ্জ-বাগেরহাট-পিরোজপুরের ভাড়া ৬২৮ টাকা, ঢাকা-বরিশাল-পটুয়াখালীর ভাড়া ৫০১ টাকা, ঢাকা-ভাঙ্গা-মাদারীপুরের ভাড়া ৩২৭ টাকা, ঢাকা-গোপালগঞ্জ-খুলনা-সাতক্ষীরার ভাড়া ৬৩৩ টাকা, ঢাকা-ভাঙ্গা-ফরিদপুরের ভাড়া ২৮৮ টাকা, ঢাকা-মাদারীপুর-বরিশাল-ভোলা-চর ফ্যাশনের ভাড়া ৬৫৩ টাকা, ঢাকা-বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতু-শরীয়তপুরের ভাড়া ২১৯ টাকা এবং ঢাকা-মাদারীপুর-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটার ভাড়া ৬৯৪ টাকা হবে।
এই ভাড়া নন এসি বাসের জন্য। অবশ্য বিআরটিসি সূত্র বলছে, এসি বাসের ভাড়া একটু বেশি হতে পারে। তবে সবকিছু ২০ জুনের মধ্যে চূড়ান্ত হবে।
এইচকেআর