ঢাকা রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • মির্জা ফখরুলই বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী, ঘোষণা বুধবার গণমাধ্যম সমাজের আয়না: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বরিশালে বাস-মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৬ বরিশালের নদী-প্রকৃতিতে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত    সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেফতার বরিশালে ড্রাম থেকে ১৪ অস্ত্র উদ্ধার, কিশোর গ্যাংয়ের ২ সদস্য আটক  প্রতি বছর ৫ কোটি করে গাছ রোপণ করা হবে: তথ্যমন্ত্রী ভীমরুলীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ঐতিহ্যবাহী ভাসমান পেয়ারার বাজার আমাকে মুগ্ধ করেছে বরিশাল সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সুমন চৌধুরী, সম্পাদক সাঈদ পান্থ বরিশালে নারীকে অর্ধউলঙ্গ করে ভিডিও ধারণ, আত্মগোপনে যুবদল কর্মী 
  • উজিরপুরে মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনা

    ঘোষণায় সীমাবদ্ধ লাশ দাফনে সরকারি সহায়তা, নেই মামলার অগ্রগতি

    ঘোষণায় সীমাবদ্ধ লাশ দাফনে সরকারি সহায়তা, নেই মামলার অগ্রগতি
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইলে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার ‘এক টাকাও’ সহায়তা পাননি ঘটনার ২১ দিন পার হলেও। যদিও নিহতদের দাফন বাবদ ২০ হাজার টাকা করে তাৎক্ষণিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিলেন বিভাগীয় কমিশনার। সেই টাকা ব্যয়  করেই নিহতদের দাফন হওয়ার কথা।  

    তবে বাস্তবতায় উল্টো চিত্র। ভূক্তভোগীরা বলছেন, পরিবারের প্রিয়জন-উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হারিয়ে অসহায় অবস্থায়ও সরকারি সহায়তা না পেয়ে ধার-কর্জ করে লাশ বহনের এ্যাম্বুুলেন্স ভাড়া দিয়েছেন কেউ কেউ। উপজেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে এখন পর্র্যন্ত নিহতদের লাশ দাফনের কোন টাকা বরাদ্দ তারা পাননি। এমনকি বাসের চালককেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এতে স্পষ্ট নিয়ম রক্ষায় মামলা আর সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

    যদিও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে পুনরায় আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে, শিগগিরই সহায়তা প্রদানের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    ক্ষতিগ্রস্তরা যা বলছেন
    বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার সুন্দরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা নাসির হাওলাদার বলেন, দুর্ঘটনায় আমার ভাই রমজান মারা গেছেন। সে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানার নিরাপত্তাকর্মী পদে চাকরি করতো। বোনের জানাজা দিতে এসে সে নিজেও প্রান হারান। ওর পরিবার এখন অসহায় অবস্থায় জীবন-যাপন করছে। আমাদের কেউ একটি টাকাও সহায়তা করেনি। এমনকি উপজেলা প্রশাসন থেকেও কেউ দেখতে আসেনি। একজন নিরাপত্তাকর্মীরতো অঢেল টাকা থাকে না। তার দাফনের টাকাটাও আমাদের ধার করে পরিশোধ করতে হয়েছে।

    বরগুনা সদর উপজেলার ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের মীরের হাওলা গ্রামের আল আমিন জানান, আমার পরিবারের দুইজন নিহত হয়েছে। এরমধ্যে বেতাগী উপজেলার কাজিরাবাদের বাসিন্দা হালিম মিয়া আমার ভাগ্নে। আর হালিমের ফুফাতো ভাই রেজা চোকদারও নিহত হন। ওদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই অস্বচ্ছল। বরিশালে যখন লাশ আনতে যাই তখন বলা হয়েছিল নগদ টাকা সহায়তা করবে। আমরা যে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার, রাষ্ট্রের উচিত আমাদের ক্ষতিপূরন দেওয়া। কিন্তু দাফনের জন্য যে টাকা দেওয়ার কথা বলেছিল সেই টাকাও আমরা পাইনি এতদিনেও।

    কথা হয় ঝালকাঠির বাসিন্দা আখি বেগমের সাথে। তিনি বলেন, আমার ৯ বছরের ছেলে আরাফাত মারা গেছেন। আমার ও আমার ছোট মেয়ে মরিয়মের পা ভেঙেছে। কিন্তু সরকার থেকে কেউ একটি টাকাও সাহায্য করেনি। ধার-কর্জ করে আমাদের চিকিৎসা চলছে। বরিশালে টাকা দেওয়ার কথা বলা হলেও কেউ খোঁজই নেয়নি। তিনি বলেন, যার কারনে আমার ছেলে  দুনিয়ায় নেই, আর পুরো পরিবার পঙ্গু হয়ে গেছি সেই বাস চালক আজও গ্রেফতার হয়নি। আর হবে বলেও মনে হয় না। সবাই শুধু নিয়ম রক্ষা করে চলে, আমাদের পাশে কেউ নেই।

    স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য
    সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ জানিয়েছেন অর্থসহায়তার বিষয়ে তারা অবহিত নন।
    ঝালকাঠি সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাবেকুন নাহার বলেন, আমার উপজেলার একজন শিশু নিহত হয়েছে জেনেছি। কিন্তু তাদের সহায়তার জন্য উপজেলা প্রশাসনে কোন বরাদ্দ আসেনি। মঠবাড়িয়াা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উর্মি ভৌমিক বলেন, ওই দুর্ঘটনায় উপজেলার ভেচকী এলাকার দুইজন নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে আমি তাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। যখন গিয়েছি তখন তাদের দাফন হয়ে গেছে। নিহতদের পরিবারের অবস্থা স্বচ্ছল। সহায়তার জন্য স্বজনদের বললে তারা বলেছিলেন, দরকার নেই। তবে নিহতদের দাফনের জন্য কোন টাকা বরাদ্দ আসেনি। এলে ক্ষতিগ্রস্থদের পৌঁছে দেওয়া হবে। বেতাগী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সুহৃদ সালেহীন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অনুক‚লে এখন পর্যন্ত কোন বরাদ্দ পাইনি। পেলে পৌঁছে দিব। বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাওছার হোসেন বলেন, দাফনে সহায়তার জন্য কোন বরাদ্দ আমরা পাইনি।

    তবে বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, ঘোষণার পরপরই বিভাগীয় কমিশনার স্যার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আমি বরিশাল জেলায় একজনকে পেয়েছিলাম, তাদের সহায়তা করেছি। তাছাড়া যারা রয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ তাদের  অনুরোধ করবো যেন সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনে যোগাযোগ করেন।

    যা বললেন বিভাগীয় কমিশনার
    সহায়তা প্রদানের ঘোষণার ২১দিন পরেও দাফনের জন্য ২০ হাজার টাকা না পৌঁছানোর বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোাঃ আমিন উল আহসানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই নিহতদের দাফনের জন্য ২০ হাজার টাকা করে সহায়তা করার ঘোষণা দিয়েছিলাম। হয়তো সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনে টাকা ছিল না বিধায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখনো হাতে পায়নি। তবে আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। যেহেতু ঘোষণা দিয়েছি অবশ্যই এই  সহায়তা তারা পাবেন।  

    অগ্রগতি নেই মামলার
    গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ বেলাল হোসেন বলেন, বাসের চালক  ছিলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার বোয়ালিয়া বাজার এলাকার মানিক খানের ছেলে আরিফ খান ওরফে মিন্টু। এইটুকু নিশ্চিত হতে  পেরেছি। তাকে আটক করতে পারিনি। সে কোথায় আছেন তাও সন্ধান  পাওয়া  যাচ্ছে না। তবে চালক বেচে আছেন এটা  নিশ্চিত হওয়া গেেেছ।

    প্রসঙ্গত, বিগত ২৯ মে (রোববার) ঢাকা থেকে ভাণ্ডারিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা যমুনা লাইন পরিবহনের চালকের ভুলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল নামক স্থানে মর্মানিত সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে ঘটনাস্থলে ৯ জন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন, ইমরান, রিপন খান, আরাফাত হোসেন হাওলাদার, নজরুল ইসলাম আকন, আনোয়ারা বেগম, হালিম মিয়া , সেন্টু মোল্লা, মাধব শীল, রেজা চোকদার ও রমজান হাওলাদার (৩৮)। এ ঘটনায় আহতরা এখেনো বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পরপরই আহতদের দেখতে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আমিন উল আহসান। সেখানে তিনি নিহতদের দাফনের জন্য প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। 


    এসএমএইচ
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ