ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news

বরিশালে দালালচক্র আর মানহীন চিকিৎসায় নাজেহাল রোগী

বরিশালে দালালচক্র আর মানহীন চিকিৎসায় নাজেহাল রোগী
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

বরিশাল নগরীর সবচেয়ে ব্যস্ততম বিবিরপুকুরপাড় এলাকা। এখানকার বাটার গলিসহ আশপাশের বিভিন্ন ভবনে শতাধিক ডাক্তারের চেম্বার, রয়েছে ডায়াগনস্টিক ল্যাব। আর এখানেই ওত পেতে থাকে দালালচক্র।

এখানে দালালদের মাধ্যমে করা হচ্ছে রোগী সংগ্রহ। আর লাইসেন্স পাওয়ার আগেই দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসা। এভাবে নামমাত্র আবেদন করে বরিশালের অলিগলিতে চলছে ব্যক্তি মালিকানার বেশির ভাগ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠেছে দালালদের। আর ১৫ থেকে ২০ জন ডাক্তার দেন কমিশন। আর দালালনির্ভর চিকিৎসকদের নিয়ে বিব্রত পেশাদার চিকিৎসক সমাজ। তবে নিয়মিত মনিটরিং-এর দাবি সিভিল সার্জনের।


রোগীদের অভিযোগ, দালালরা মিথ্যা বুঝিয়ে চাকচিক্যে ভরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা পকেটশূন্য করেন রোগীদের।

শরীয়তপুর থেকে আসা জোসনা বেগম জানান, তিনি ডা. অসিত ভূষণ দাসকে দেখানোর জন্য বিবিরপুকুরপাড় এসে চেম্বারের খোঁজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন লোক এসে তাকে অন্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সময় টিভি ক্যামেরা দেখে ওই লোকজন পালিয়ে যান।

রফিকুল ইসলাম নামে এক রোগী বলেন, আমরা গরিব মানুষ। গ্রাম থেকে শহরে আসি ডাক্তার দেখাতে। চেম্বার চিনি না বিধায় এদিক-ওদিক তাকাই ও হাঁটতে থাকি।

তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ আইসা বলে কোন ডাক্তার দেখাবেন? বলছি অসিত ভূষণ দাস। দুজন লোক কয়, ও ডাক্তার বরিশালে নাই, ঢাকায় গেছে। তারা আমাগো অন্য ডাক্তারের কাছে জোর কইরা নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর আগেও এমন কইরা ভুয়া ডাক্তার দেখাইয়া ডায়াগনস্টিক ল্যাবে নিয়া অনেক টাকা নষ্ট করছে আমাগো।’

শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আউটডোর ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি ডা. সুদীপ হালদার বলেন, অনেক নয়, বরিশালে কয়েকজন ডাক্তার তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। তারা দালাল পোষে। কমিশন দিয়ে রোগী নিয়ে আসে চেম্বারে। তথাকথিত ডায়াগনস্টিক ল্যাবে ভুলভাল রিপোর্ট করাচ্ছে। রোগীর টাকা গচ্ছা তো যাচ্ছেই জীবনও হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ওই ল্যাব মালিক ও দালাল প্রাকটিস করা ডাক্তার।

বরিশাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মো. কাজী কামাল বলেন, একাধিকবার মানহীন ডায়াগনস্টিকের ল্যাবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ তেমন কিচ্ছু হচ্ছে না। দালালচক্রের কারণে তারা নাজেহাল বলে জানান কাজী কামাল।

তিনি আরও বলেন, কোনো রকম আবেদন করেই মানহীন ডায়াগনস্টিক ল্যাবে ভরে যাচ্ছে বরিশাল। এর সঙ্গে রাজনৈতিক নেতারা জড়িত।

তবে নিয়মিত মনিটরিং করা হয় বলে দাবি সিভিল সার্জনের। সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান বলেন, ‘আমরা তৎপর আছি দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। প্রায়ই অভিযান চালিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়।’ আর অনুমোদনের বাইনে ডায়াগনস্টিক ল্যাব চালানোর সুযোগ নেই বলে দাবি তার। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বরিশাল  নগরী ও বিভিন্ন উপজেলায় বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে প্রায় ৪শর বেশি ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিক রয়েছে বলে জানা গেছে।


 


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন