অবসান হচ্ছে ভোগান্তির, সড়ক সংস্কারে বদলে যাচ্ছে রূপাতলী হাউজিং

বরিশাল নগরীর রুপাতলী আবাসিক এলাকা নগরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসনে পরিণত হলেও দীর্ঘদিনে উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। বিশেষ করে বাসিন্দারদের চলাচলে সারাবছরই ভোগান্তি ছিল।
বর্ষায় বসবাসকারিরা নৌকা বানিয়ে চলাচল করতেন। তবে সেই ভোগান্তির অবসান হচ্ছে এবার।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর উদ্যোগে হাউজিংয়ের প্রধান সড়কের নিমার্ণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
বুধবার (১৩ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, হাউজিংয়ের প্রধান সড়কের পৌনে এক কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ এগিয়ে চলছে।
নিমার্ণ কাজের ঠিকাদার ২৪ নং ওর্য়াড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাফিন মাহামুদ তারিক বলেন, রুপাতলী হাউজিং এলাকার বসবাসকারি মানুষের চলাচলে প্রধান সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার করা হয়নি। এতে বর্ষার সময় তাদের দুর্ভোগের সীমা ছিল না। মাননীয় মেয়র সাধারণ মানুষের এমন ভোগান্তির কথা জেনে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন।
তিনি বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সড়কের কাজ শুরু করা হয়। চলমান রেখেই ২ মাসের মাঝামাঝি সময়ের ভিতর রাস্তাটির কাজ শেষ পর্যায় এসেছে। এখন ঠালাই হলে পুরোপুরিভাবে উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।
তারিক আরো বলেন, রাস্তাটি সংস্কার করতে দু দফায় ১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে সড়কটি ১০ বছরের গ্যারিন্ট সহকারে করা হয়েছে।
হাউজিংয়ের বি ব্লকে দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে বসবাস করা সানি বলেন, যখন আবাসিক এলাকায় বসবাস শুরু করি, তখন কোন বিদ্যুতের ব্যবস্থা ছিল না। ভাঙ্গাচুরা সড়ক, ড্রেন ব্যবস্থা ছিল নাজুক। বসবাসকারি মানুষ চলাচল করতে ভয় পেত। এক কথায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রানালয়ের অধিনস্থ হলেও আবাসিক এলাকাটি ছিল ভৌতিক অবস্থায়।
তিনি বলেন, সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরন হাউজিংয়ে বাড়ি করার পর বিভিন্ন সড়কে ড্রেন হয়েছে। কিন্তু তিনি মৃত্যুবরণ করার পর আর কোন উন্নয়ন হয়নি। বর্তমান মেয়র আমাদের কষ্টের বিষয়টি বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে জোর দিয়েছেন। বর্ষার আগেই রাস্তাটির কাজ দ্রুত শেষ করেছেন।
বাসিন্দা বজলুর রহমান ইঞ্জিনিয়ার, নজরুল, তুহিন জোমাদ্দার, সামসুল আরেফিন সড়ক সংস্কারের জন্য সিটি মেয়রের প্রশংসা করেন।
হাউজিং কল্যান সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, বর্তমানে হাউজিংয়ে ৩০০ পরিবার বসবাস করছেন। এর মধ্যে সরকারি-বেসরকারি লোক বসবাস করচ্ছেন। কিন্তু সড়কে চলাচলে বাসিন্দারের ছিল ভোগান্তি। বর্ষার সময় মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় করতে যেতে কষ্ট হত। অনেক সময় বাসায় নামাজ পড়া লাগতো। আশা করি এবার সেই ভোগান্তিতে পড়তে হবে না।
শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পাপিয়া জেসমিন বলেন, সড়কটির জন্য স্কুলে শিক্ষার্থীরা অনেক কষ্ট করেছে। বৃষ্টিতে রাস্তায় থই থই করা পানিতে ভিজে স্কুলে আসতো ছোট ছোট বাচ্চরা। সিটি মেয়র তা নজরে নিয়ে সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন। এখন ভোগান্তির অবসান হবে।
ব্যবসায়ী আনোয়ার, মিলন কাজী, মামুন হাওলাদার, মানিক হাওলাদার বলেন, ভাঙ্গাচুরা রাস্তার কারনে মানুষ দোকানে তেমন আসতো না। বেচাকেনা ভালো ছিল না। রাস্তাটি হয়েছে, এখন বেচাকেনা ভালো হতে পারে।
হাউজিং মসজিদের ইমাম ইব্রাহীম পরিবার নিয়ে রূপাতলী মাওলানা ভাসানী সড়কে বসবাস করেন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে ইমামতি করেন হাউজিং জামে মসজিদে। তিনি বলেন, ভাই নামাজ পড়াতে আসা যাওয়ায় এতটা কষ্ট পোহাতে হয়েছে, তা বলার মত না । তবে মেয়র রাস্তাটি করে দেয়ায় কষ্টটা ভুলে গেলাম।
হাউজিং কল্যাণ সমিতির সহ সাধারণ সম্পাদক মো. রনি বলেন, রাস্তাটি যেমন মজবুত হয়েছে, তেমনি টেকসই। এজন্য এখানকার বাসিন্দারদের পক্ষ থেকে মেয়রকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের (হাউজিং) এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, হাউজিংয়ের ভিতরে সড়কগুলো সংস্কারের জন্য মন্ত্রনালয়ে জানানো হয়েছে। তবে সিটি মেয়র আগে-ভাগেই প্রধান সড়কের কাজ শেষ করেছেন। এতে বাসিন্দারদের অনেকাটাই দুর্ভোগ দূর হয়েছে।
এসএমএইচ