ঢাকা শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

Motobad news

বৈশাখী মেলা উপলক্ষে ব্যস্ত আগৈলঝাড়ার মৃৎশিল্পীরা

বৈশাখী মেলা উপলক্ষে ব্যস্ত আগৈলঝাড়ার মৃৎশিল্পীরা
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

আর ২দিন পরই বাঙালীর প্রানের উৎসব নববর্ষ। আর এসব উৎসবের মধ্যে পহেলা বৈশাখ অন্যতম। সারাদেশের বিভিন্ন স্থানের মত আগৈলঝাড়া উপজেলার সবখানেই এখন ব্যস্ততা বৈশাখকে ঘিরে। বৈশাখকে বরণ করতে চলছে নানাধরণের প্রস্তুতি।  গ্রামীণ জনপদে বৈশাখ মাসে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন পূজা অনুষ্ঠিত হয়। আর এ উপলক্ষে সবচেয়ে আকর্ষণীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে বৈশাখী মেলা হলো অন্যতম। আর বৈশাখী মেলার মূল আকর্ষণই হচ্ছে মাটির তৈরি খেলনা ও তৈজসপত্র।  

এ মাটির খেলনা ও তৈজসপত্র তৈরি করার জন্য গত এক মাস ধরে ব্যস্ত রয়েছেন বিভিন্ন এলাকার মৃৎশিল্পীরা। বাহারী ও হরেক রকম ডিজাইনের ছোট-বড় খেলনা তৈরি করেছেন মেলায় বিক্রির জন্য। পহেলা বৈশাখ থেকে পুরো মাস চলবে এ ব্যবসা। উপজেলার চাঁদশী, বুড়ির মেলাসহ বিভিন্ন স্থানে পুরো বৈশাখ মাস জুড়ে থাকবে বৈশাখী মেলা।  

উপজেলার উত্তর শিহিপাশা গ্রামের তরণী পাল, মহাদেব ও রানী পাল, মায়া পাল জানান, তারা প্রত্যেকেই মেলার জন্য বিভিন্ন ধরণের খেলনা ও তৈজসপত্র তৈরি করছেন। খেলনার মধ্যে রয়েছে মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, রবি ঠাকুর, কাজী নজরুল, বঙ্গবন্ধু, গণেশ পাগলসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি, পুতুল, হাতি, ঘোড়া, বানর, সিংহ, দোয়েল, কচ্ছপ, নৌকা, মাছ, হাঁস, মুরগির ডিম ইত্যাদি।  ফলের মধ্যে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, তাল ইত্যাদি। তারা জানান, আমাদের পূর্ব পুরুষেরা এ পেশার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাই আমরাও সেই ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টায় আছি। সারাবছরই আমরা মাটির জিনিষ তৈরি করি।  সিরামিক, পাষ্টিক ও ধাতব তৈজসপত্রের জন্য আমাদের শিল্পে অনেকটাই ধ্বস নেমেছে। অনেকে এ পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তবুও আমরা গুটিকয়েক পাল পরিবার পুরানো পেশা আঁকড়ে আছি। যখন কোন মেলা বসে তখন আমরা মেলার জন্যও খেলনা তৈরি করি। এটা আমাদের উপরি আয়। তবে আগের মত মানুষের চাহিদা না থাকায় বিক্রি ভালো হয়না।  

কুমারপাড়ায় চৈত্র মাসেই শুরু হয় মাটির খেলনা ও তৈজসপত্র তৈরির কাজ। বৈশাখ মাস জুড়ে বিভিন্ন মেলায় চলে বিক্রি। এসব মাটির খেলনার দাম ১০ টাকা থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত।  পালপাড়ার তারক পাল বলেন, আমাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য নেই। মানুষের প্রয়োজন মেটাতে আমরা তাদের চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছি। এ পেশা ছেড়ে অনেকেই ভিন্ন পেশায় নেমেছে। আমরা কয়েকটি পরিবার এখনও এ পেশা ছাড়তে পারিনি। মহামারি করোনার কারনে গত দুই বছর কোন মেলা হয়নি। তাই এবার বিভিন্ন স্থানে মেলা বসার খবর পেয়ে খুব ভালো লাগলো। কারন এবার যদি কিছু বেঁচা কেনা হয়।  

জয়দেব পাল জানান, আমাদের এ এলাকায় আগে আরও অনেক পরিবার ছিল যারা এ শিল্পের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু এখন আর কেউ এ পেশায় থাকতে চায় না। এতে কষ্ট অনেক বেশি কিন্তু লাভ কম। হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার আজও আমরা এ পেশা ধরে রেখেছে। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল হাশেম বলেন, এই উপজেলার পাল সম্প্রদায়ের বেশ কিছু পরিবার এখনও মাটির বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করছে। মৃৎশিল্প আমাদের সংস্কৃতিরই একটা অংশ। সরকার এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তাই তারা যে কোন সহযোগিতা চাইলে তাদের সহযোগিতা করা হবে। 
 


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন