ঢাকা শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

Motobad news

নিরাপত্তাহীন বরিশাল নগরীর রূপাতলীর আবাসিক হোটেলগুলো

নিরাপত্তাহীন বরিশাল নগরীর রূপাতলীর আবাসিক হোটেলগুলো
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র প্রবেশপত্র রূপাতলী বাসর্টামিনাল এলাকা। নগরীর প্রধান ব্যস্ততম এই এলাকায়  বিভিন্ন জেলা থেকে জরুরি প্রয়োজনে অনেক মানুষ এখানে আসেন। তাদের বেশিরভাগেরই রাতের ঠিকানা হয় আবাসিক হোটেলগুলোতে। কিন্তু রূপাতলীর আবাসিক হোটেলগুলো কতটা নিরাপদ। এ প্রশ্ন করাই যেতে পারে। প্রায়শই এসব আবাসিক হোটেল ঘটছে খুন-খারাবি হচ্ছে। ধর্ষণসহ নানা অপরাধের অভিযোগও কমও নয়। 

অনুসন্ধানে দেখা গেছে- বেশিরভাগ হোটেলেরই লাইসেন্স নেই। কর্তৃপক্ষের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তার দিকগুলো নিশ্চিত না হয়ে হোটেলে না ওঠার পরামর্শ পুলিশ কর্মকর্তাদের। হোটেল ব্যবসার ক্ষেত্রে অধিকাংশ মালিক মহানগর পুলিশ নির্দেশিত নিয়মগুলো যথাযথ অনুসরণ না করায় বর্ডারের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকার পরিবর্তে এসব আবাসিক হোটেল দুর্বৃত্তদের নানা অপকর্ম সংঘটনের অভয়ারণ্য হয়ে উঠছে।

গত ৪ এপ্রিল রাতে  হোটেল স্বাধীন পার্কের দোতলার একটি কক্ষ থেকে  রুবেল খন্দকার (৩০ মাছ ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের স্ত্রী  অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে দুই দিন পর হত্যাকারি হোটেল ম্যানেজার আনিচুরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।  এ ধরনের অপরাধ ছাড়াও  রূপাতলীর আবাসিক হোটেল কেন্দ্রিক নানা অঘটন বেশ কয়েক বছর ধরে ঘটে আসছে। অসামাজিক কার্যকলাপ, প্রতারণামূলক নানা কর্মকান্ড, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আসরসহ বিভিন্ন রকম অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ তো রয়েছেই। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকি কাজে উদাসীনতা, হোটেল মালিকদের গাফিলতি ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে বর্ডারদের অসচেতনতাও পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলছে। 

পুলিশি নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, হোটেল কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক বোর্ডারকে কক্ষ ভাড়া দেয়ার পূর্বে বোর্ডারের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, স্থিরচিত্র, পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা, হাতের ছাপ, ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করবেন। ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপনের বাধ্যবাধকতা। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রূপাতলী এলাকায় ৫টি আবাসিক হোটেল রয়েছে। এগুলো হল, হোটেল অবকাশ, স্বাধীন বাংলা, মেট্রোপলিটন, সোনার বাংলা, সিঙ্গাপুর। এসব হোটেলে  দুই একটিতে শুধুমাত্র সিসি ক্যামেরা রয়েছে। এমনকি মাছ ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার হওয়া হোটেল স্বাধীন পার্ক আবাসিক হোটেলটি ছিল না কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। 

অন্যদিকে কোনো নির্দেশনাবলী মানছেনা হোটেল কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ পূরণ করা তথ্য ফরমের ফটোকপি প্রতিদিন সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানোর নির্দেশ থাকলেও হোটেল মালিকরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর কোনোটিই অনুসরণ করেন না। ফলে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটে গেলেও পুলিশ সদস্যদের পক্ষে অপরাধী শনাক্ত করা কিংবা দুর্ঘটনার শিকার কারো পরিচিতজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না। একই সঙ্গে সাধারণ বর্ডারদের নিরাপত্তার বিষয়টিও রয়ে যায় ঝুঁকির মুখে। তবে এ ক্ষেত্রে হোটেল মালিকদের আইনি নির্দেশনা পাশ কাটিয়ে যাওয়ার প্রবণতাই শুধু নয়, হোটেলগুলোর প্রতি সংশ্লিষ্ট থানার সঠিক তদারকি না থাকাও অনেকাংশে দায়ী বলে অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে। 

আবার কিছু আবাসিক হোটেলের মালিক ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে বাড়তি লাভের আশায় হোটেল অভ্যন্তরে অসামাজিক কার্যকলাপ, প্রতারণামূলক নানা কর্মকান্ড, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আসরের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে। কথা হয় রূপাতলী মেট্রোপলিটন আবাসিক হোটেল ম্যানেজার কুদ্দুস মিয়ার সাথে। 

তিনি দাবি করেন, সিসি ক্যামেরা থাকায় জাতীয় পরিচয়পত্র, স্থিরচিত্র রাখার ক্ষেত্রে তেমন একটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তারপরও আমরা রাখছি। তবে ২-১ টি প্রমাণ দেখতে চাইলে তিনি দেখাতে পারেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক কর্মচারী জানান রেজিস্টার বহিতে শুধুমাত্র নাম ঠিকানা রেখেই দায়-দায়িত্ব শেষ করা হয়। 

হোটেল সোনার বাংলা ম্যানেজার মাহাবুব হোসেন জানান, সিসি ক্যামেরা দু একদিনের মধ্যে বসানো হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র, ও স্থিরচিত্র রাখা হয়না। কারণ এখানে যেসব বোর্ডার আসে তাদের অধিকাংশই পূর্ব পরিচিত। 

এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিজুল করিম বলেন,  আইন অনুযায়ী প্রতিদিনি রাত ১২টার মধ্যে আবাসিক হোটেলগুলোর বর্ডারদের নামের তালিকা পরিচয়সহ থানায় জমা দেয়ার বাধ্যতামূলক। কিন্তু কিছু  হোটেল মালিকরা মানছেন না। এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, সার্বিকভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের। তারপরও আবাসিক হোটেল কর্তৃপক্ষরাও নিজেদের অভ্যন্তরিন নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখতে হবে। অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত না হয়ে বর্ডারদের হোটেলে উঠা উচিত নয়।
 


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন