বরিশালে কর্ণকাঠীতে জমি বিক্রির পায়তারা!

একের পর এক জমি বিক্রি করে দখলের পায়তারা চালানোর অভিযোগ উঠেছে চুন্নু নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, জমির ওয়ারিস থাকা সত্ত্বে তাদের কর্ণপাত করা হচ্ছে না বলে সফিকুল ইসলাম খান ও শামসুল আজম খান এ অভিযোগ করেন। তবে এ অভিযোগ অস্বিকার করে চুন্নু খান দাবী করেন, নানার সূত্রে পাওয়া জমি বিক্রি করা হচ্ছে। কোন ওয়ারিস ঠকানো হচ্ছে না। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল সদর উপজেলার কর্ণকাঠি এলাকায়।
জানা গেছে, কর্ণকাঠী জেএল নং ৫৭, এস এ খতিয়ান নং ১০২১, ১৪৮৫, এস এ দাগ নং ১৬৩, ১৬৫ ও ২২২ পৈত্রিক ওয়ারিস সূত্রে সফিকুল ইসলাম খান ও শামসুল আজম খান সুমনের ১৮ শতাংশ জমি রয়েছে। ভোগদখলে থাকা সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে চুন্নু ও তার সহযোগিরা দখলের পায়তারা চালিয়ে আসছে।
সফিকুল ইসলাম খান বলেন, ২০১৯ সালে আমার জমিতে একটি ঘর উত্তোলন করেছিলাম। রাতের আধারে সেই ঘর, বাউন্ডারি ভেঙ্গে ফেলে নিয়ে যায় চুন্নু, লাল, নসা, কামরুল। এ ঘটনায় আদালতে মামলা করা হলে থানা পুলিশ ও পিবিআই তদন্ত করে সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপরও জমি দখলের মিশন অব্যাহত রেখেছে তাঁরা। সম্প্রতি ঐ দাগে আব্দুল হালিম নামে ব্যক্তির কাছে ৫.৫ শতাংশ জমি বিক্রি করার পায়তার চালাচ্ছে। এবং আমার ১৬৩ ও ২২২ দাগের জমির বাউন্ডারির ভিতরে অবৈধভাবে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়েছে। অথচ চুন্নু খানদের ১৬৫ দাগে জমি রয়েছে। ২০১৮ সালে চুন্নু মামা ও খালারা ১৬৩ ও ২২২ দাগ থেকে ভোগদখল দেখিয়ে আগেই বিক্রি করেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমাদের হুমকি-ধামকি দেয় চুন্নু গংরা।
এদিকে জমি ক্রয় করার সত্যতা স্বিকার করে আব্দুল হালিম মুঠোফোনে বলেন, দেড় মাস ধরে কাগজ-পত্র যাচাই বাছাই করা হয়েছে। আইনজীবীর মাধ্যমে কাগজে কোন ভূল পাওয়া যায়নি। এজন্য জমি ক্রয় করা হয়েছে। তারপরেও যদি কেই আপত্তি করে থাকে। সে বিষয়টি বিক্রিয়কারির নিকট জানানো হবে। এবং তাদের মধ্যে সমাধানে বসার অনুরোধ করা হবে।
ভুক্তভোগি শামসুল আজম খান সুমন অভিযোগ করেন, জমির দলিলসহ অন্যান্য কাগজ-পত্র আমাদের নামে। ওয়ারিস গোপন রেখে কি ভাবে অন্য লোকদের নিকট জমি বিক্রি করা হয়, তা জানা নেই। প্রতারনার অভিযোগে আমি আইনের আশ্রয় নিব। তিনি বলেন, এর আগেও আমার মা জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাঁর ওয়ারিস সনদ জালিয়াতি করেছে চুন্নুসহ অনান্যরা। এই জালিয়াতির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা দেয়া হয়েছে।
এ বিষয় চুন্নু খান বলেন, যারা অভিযোগ করেছেন তাদের এই দাগে জমি নেই। অন্য স্থানে জমি রয়েছে। সেখানে তাঁরা বাউন্ডারি দিয়েছে। জমি বিক্রি ও পায়তারা চালাচ্ছি না।
এইচকেআর