ভাঙন রোধে মেঘণা নদীর চার পয়েন্টে একযোগে মানববন্ধন

বরিশালের হিজলা উপজেলায় নদীভাঙ্গন এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। উপজেলার চার দিক জুড়ে আছে নদী। এর তিন দিকে মেঘনা এবং এক পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নয়া ভাঙ্গলী নদী। কয়েক বছর যাবৎ এ নদীর দুপাড়ে বালু জমে ছোট হয়ে গেছে।
অপর দিকে বরজালিয়া ইউনিয়নে অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি মেঘনা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে নিঃস্ব হয়েছে অনেক মানুষ। তবে এ নিয়ে জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসন কোনো ভূমিকা নেই বললেই চলে।
আর তাই এবার প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ভাঙন কুলের মানুষেরা। তারা ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টির জন্য সোমবার সকালে এক যোগে মেঘনা নদীর চারটি পয়েন্টে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
এর মধ্যে বড়জালিয়া ইউনিয়নের টেকের বাজার সংলগ্ন বাউশিয়া গ্রামে মেঘনা পাড়ে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন হাওলাদার, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন রাঢ়ী, হিজলা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মীর আবদুল মাজেদ, উপজেলা যুবদল নেতা আলতাফ হোসেন খোকনসহ স্থানীয়রা অংশগ্রহণ করেন।
এদিকে, বরজালিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর সংলগ্ন কোরবান রাস্তার মাথায় মেঘনা নদীর পাড়ে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন বড়জালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাওয়ানুর চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান শাহান শাহ চৌধুরী সামু সহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।
এছাড়া পুরাতন হিজলা খেয়াঘাট সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ইউনিয়নের অপর একটি অংশ। সেখানে ইউপি সদস্য জামাল রাঢ়ীসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, ‘উপজেলা সদর থেকে ১০০ গজের মধ্যে মেঘনা নদীর ভাঙন চলে এসেছে। কয়েকটি গ্রাম মেঘনার করাল গ্রাসে বিলিন হয়ে গেছে এরি মধ্যে। ভাঙনে নিঃশ্ব মানুষগুলো রাস্তার পাশে, প্রতিবেশী এবং আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। দিন যতো যাচ্ছে পরিস্থিতি ততই ঝুঁকির দিকে যাচ্ছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব নদীর ভাঙন ঠেকাতে বাঁধ নির্মাণ জরুরি।
তারা বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের কাছে একাধিকবার দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা শুধু আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছেন। তাছাড়া পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ ফারুক শামীম পরিদর্শনে এসেছিলেন। তিনিও আমাদের আশ্বাস দিয়ে গেছেন। কিন্তু আশ্বাসের বাস্তবায়ণ দেখছি না। তাই ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি এবং হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
কেআর