বরিশালে ডিলারের সংখ্যা বাড়লেও পওয়া যায় না পণ্য

নিত্যপণ্যের লাগামছাড়া দামে হিমশিম খাচ্ছেন নগরের সাধারণ মানুষ। যে কারণে অনেকেই ঝুঁকছেন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য। কেননা, বাজারের দামের বিপরীতে টিসিবির পণ্য বেশ কম দামে পাওয়া যায়। কিন্তু টিসিবি থেকে যে পরিমাণ পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে, তার কয়েক গুণ চাহিদা রয়েছে নগরে। যে কারণে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মানুষ পাচ্ছেন না তেল, চিনি ও ডাল।
এদিকে, অভিযোগ উঠেছে একের পর এক ডিলার সংখ্যা বৃদ্ধি করলেও পর্যাপ্ত পণ্য সরবরাহ করছে না টিসিবি কর্তৃপক্ষ। যে কারণে ডিলারদের মধ্যেও ক্ষোভ রয়েছে। নগরে শতাধিক ডিলার রয়েছেন বলে টিসিবি সূত্রে জানা গেছে।
রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি) নগরের হার্ট ফাউন্ডেশনের সামনে ট্রাকে করে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হয়। এ খবরে সেখানে শত শত মানুষ জড়ো হন। একপর্যায়ে পণ্য নিয়ে অনেকটা কাড়াকাড়ি ঘটে। সেখানকার একাধিক গ্রাহক জানান, তেল না পেয়ে তাঁদের ফিরে যেতে হয়েছে। এর আগে একই চিত্র দেখা গেছে নগরের বটতলা ও চৌমাথা এলাকায়। টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, আগে ট্রাক থেকে ৫টি পণ্য বিক্রি করা হলেও এখন সেখানে থাকছে মাত্র ৩টি পণ্য। ৩টি পণ্যের মধ্যে চিনি ৫৫ টাকা, ডাল ৬৫ টাকা এবং তেল ১১০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। যদিও এদিন নগরের বাজার রোড ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি চিনি ৬৫ টাকা, ডাল ৭০ টাকা এবং তেল ১৭০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। টিসিবির ডিলার মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজের বিক্রয়কর্মী মোকলেছুর রহমান জানান, তাঁরা সর্বশেষ ৬ ফেব্রুয়ারি পণ্য পেয়েছেন।
এর আগে গত মাসের ১৭ তারিখ পণ্য পান। কোনো মাসে আবার পণ্য পাওয়াও যায় না। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, ডিলারের সংখ্যা একের পর এক বাড়ছেই। অথচ ট্রাকের পণ্য করা হয়েছে ৫টির জায়গায় ৩টি। তিনি জানান, প্রত্যেক ডিলারকে সবশেষ চিনি ৩ শ কেজি, ডাল ৩০০ শ কেজি এবং তেল ৫০০ লিটার বণ্টন করা হয়েছে। সেগুলো ১৫০-২০০ জন গ্রাহককে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। অথচ গ্রাহক চাহিদা রয়েছে ৩-৪ গুণ বেশি। আরেকজন ডিলার শেখ মাসুদ রানা বলেন, নগরে এখন ১০০ এর ওপরে ডিলার রয়েছেন। নতুন করে ডিলার নিয়োগের জন্য ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। যে কারণে কোনো মাসে একবার পণ্য আসে, আবার কোনো মাসে একেবারেই আসে না। টিসিবি কার্যালয়ের বরিশালের অফিস প্রধান আল আমিন হাওলাদারের এ বিষয়ে কথা বলতে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফারুক হোসেন বলেন, স্যারের (অফিস প্রধান) তথ্য দিতে নিষেধ রয়েছে। স্যার বাসায় থাকলে ফোন ধরেন না।
টিসিবির ডিলাররা জানান, অফিস প্রধান তাঁদের ফোন ধরেন না। তাই মাঠে পণ্য সরবরাহে সমস্যা হলেও জানানো যায় না। টিসিবির বরিশাল কার্যালয়ের একাধিক কর্মচারীও একই কথা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন বরিশালের জেলা সাধারণ সম্পাদক কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে সাধারণ মানুষ টিসিবির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। কিন্তু টিসিবির যদি পর্যাপ্ত পণ্য সরবরাহ করতে না পারে, তাহলে ভোগান্তি বাড়বে।
এইচকেআর