ঢাকা মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম

হিজলায় স্বামী পরিত্যাক্তা নারী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা

হিজলায় স্বামী পরিত্যাক্তা নারী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা
ছবি: প্রতীকি
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

বরিশালের হিজলা উপজেলায় স্বামী পরিত্যাক্তা এক নারী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন। তার অভিযোগ একই গ্রামের শহিদ বিশ্বাস নামের বৃদ্ধর ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তিনি। ধর্ষণের কারণেই তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের কোলচর গুচ্ছগ্রামে। অভিযুক্ত শহিদ বিশ্বাস (৫০) একই গ্রামের শোনাবালি বিশ্বাসের ছেলে এবং চার সন্তানের জনক। এছাড়া অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীর ইতিপূর্বে দুটি সন্তান রয়েছে।

অভিযোগকারী নারী জানান, ‘১২ বছর পূর্বে দুই সন্তানসহ তাকে ছেড়ে চলে যায় স্বামী। এরপর থেকে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘সাত মাসপূর্বে রাতের বেলায় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাইরে বের হলে একই গ্রামের শহিদ বিশ্বাস আমাকে জোড়পূর্বক ধর্ষণ করে। কিন্তু লোক লজ্জার ভয়ে বিষয়টি কাউকে জানাইনি। কিছুদিন পরে বুঝতে পারি আমি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছি।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি শহিদ বিশ্বাসকে জানালে তিনি ঘটনাটি কাউকে না বলতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। তবে বিষয়টি ধীরে ধীরে গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে আমি বাবার বাড়ি চলে আসি। কিন্তু গরীব হওয়ায় এই বিষয়ে আমি আইনি সহায়তা নিতে পারছি না।

এদিকে, ঘটনা জানাজানির পর থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন অভিযুক্ত শহিদ বিশ্বাস। যে কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী রানু বেগম বলেন, ‘ওই নারীর চরিত্র ভালো নয়। হয়তো অন্য কোথাও অপকর্ম করতে গিয়ে ফেসে গেছে। এখন আমার স্বামীকে দোষারোপ করছে। তবে আমার স্বামী যদি এ ধরণের অপকর্ম করে থাকে তবে তারও বিচার হওয়া উচিত।

গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা ধলু সরদারের ছেলে কালাম সরদার বলেন, ‘আমি ওই নারীর কাছ থেকেই ধর্ষণ এবং অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছি। অভিযোগের বিষয়ে শহিদ বিশ্বাসের নিকট জানতে চাইলে সে পুরোটাই অস্বীকার করে।

গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বর) মো. ফয়সাল বিন বাসার বলেন, ‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। কিন্তু অন্তঃসত্ত্বা ওই নারী খুবই গরীব পরিবারের মেয়ে। সে ঘটনাটি চেয়ারম্যানকেও জানিয়েছে বলে শুনেছি।

গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাহজাহান তালুকদার বলেন, ‘অন্তঃসত্ত্বা নারী বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। আমি তাকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু পরবর্তীতে সে কি করেছে সেটা আমার জানা নেই।

হিজলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া বলেন, ‘এ ধরনের কোন অভিযোগ আমার থানায় আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


কেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ