৮ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বদলি, নতুন সংকটের শঙ্কায় শেবাচিম

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসক সংকট চলছে। কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী প্রায় ৪৫ ভাগ চিকিৎসকের পদ শূণ্য। সেই সংকটের মধ্যেই এই হাসপাতাল থেকে জুনিয়ার কনসালটেন্ট পদমর্যাদার আটজন চিকিৎসককে একযোগে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাদের বদলি করা হয়।
একই আদেশে শেবাচিম ছাড়াও বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল এবং পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের একজন করে মোট দুজনকে বদলি করা হয়েছে। শেবাচিম হাসপাতাল থেকে একযোগে আট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বদলির আদেশে এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পার-৩ এর উপসচিব এ,এফ,এম এহতেশামুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ এবং বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের মোট ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে বদলির আদেশ দেয়া হয়েছে। এদেরকে ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যোগদান করতে বলা হয়েছে। তবে হঠাৎ করে কি কারণে তাদের বদলি করা হলো সে বিষয়টি উল্লেখ নেই প্রজ্ঞাপনে।
সূত্র জানায়, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বেশ জোড়ালো ভূমিকা রেখে আসছিলেন অর্থ-সার্জারি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. মাসরেফুল ইসলাম সৈকত। এরি মধ্যে তার নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগ বেশ প্রশংসনীয় হয়েছে।
যার মধ্যে হাসপাতালে আসা রোগীদের বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে না গিয়ে হাসপাতালের ল্যাবে বাধ্যতামূলক পরীক্ষা করার যে নিয়মটি চালু করেছিলেন সেটি সাধারণ মহলে বেশ সাড়া ফেলে। হঠাৎ করেই তাকে বদলি করা হয়েছে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে। গরীবের চিকিৎসক হিসেবে আখ্যা পাওয়া এই চিকিৎসককে বদলির আদেশে সাধারণ মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া নারী রোগীদের আস্থা শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনী বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. তানিয়া আফরোজকেও বদলি করা হয়েছে একই হাসপাতালে। এছাড়া শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থপেডিক্স বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সুদীপ্ত কুমার হালদারকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল, ইএনটি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আলী আহমেদকে পিরোজপুর জেলা সদর হাসপাতালে।
এছাড়া শেবাচিমের ইএনটি’র জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. আব্দুল্লাহ্ আল মামুনকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. জহিরুল ইসলামকে ভোলার ১২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. শরিফুল ইসলামকে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সঞ্জয় কুমার দাসকে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারী বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. জয় জাখারিয়া রবকে পটুয়াখালী জেলা সদর হাসপাতালে এবং সর্জারি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. সুপিয়ার রহমানকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে।
শেবাচিম হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘এ হাসপাতালে দীর্ঘ দিন ধরেই চিকিৎসক সংকট চলে আসছে। বর্তমানে হাসপাতালের মোট ৪৫ ভাগ চিকিৎসকের পদ শূণ্য রয়েছে। এসব পদে চিকিৎসক পদায়নের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই মন্ত্রণালয়ে চিঠি চালাচালি করে আসছেন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পদ পূরণ না করে উল্টো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বদলিতে এ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা আরও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ প্রসঙ্গে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ.এম সাইফুল ইসলাম ইসলাম বলেন, ‘আমার হাসপাতালে পূর্বে থেকেই চিকিৎসক সংকট চলছে। তার মধ্যে একযোগে আটজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বদলি নতুন করে সংকটে ফেলতে পারে। কেননা দক্ষিণাঞ্চলের সকল উপজেলার রোগীই এই হাসপাতালে প্রেরণ করা হচ্ছে বা চিকিৎসা নিতে আসছে। সেখানে এখানকার চিকিৎসকদের উপজেলা পর্যায়ে নিয়ে বড় কোন লাভ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের হাসপাতালে সংকটের বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব স্যারের সাথে কথা বলছি। তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে নতুন করে কোন সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তার পরেও বিষয়টি আমি পুনরায় মন্ত্রণালয়ে সচিব স্যারের সাথে যোগা করবো।
এইচকেআর