ঢাকা মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম

বরিশালে ভবন হেলে পড়ায় খাল খননের কাজ স্থগিত

বরিশালে ভবন হেলে পড়ায় খাল খননের কাজ স্থগিত
ভবন হেলে পড়া ও ফাটল দেখা দেওয়ায় খাল খননের কাজ স্থগিত
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

বরিশালে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় দুইতলা একটি ভবন হেলে পড়া এবং একটি একতলা ভবনসহ কয়েকটি পাকা ঘরে ফাটল দেখা দেওয়ায় খাল খননের কাজ স্থগিত করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বরিশাল কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রতিনিধি হিসেবে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামান বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঘটনাস্থল পাতারহাট বন্দর এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন।

ফিরে এসে তিনি সার্বিক বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবহিত করেন। এরপর সেখানকার খনন কাজ আপাতত বন্ধ রাখতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেন নির্বাহী প্রকৌশলী।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন মালিক সাবেক পৌর কাউন্সিলর আনিসুর রহমান জমাদ্দার জানান, তার দুইতলা ভবনে ফাটল ও হেলে পড়ায় সেটি বসবাসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তিনি আজ (বুধবার) সকাল থেকে ভবনটি অপসারণ কাজ শুরু করেছেন।

আনিসুর রহমান জানান, তার মালিকানাধীন জমিতে আট বছর আগে ২০ ফুট বাই ২০ ফুট দোতালা ভবন নির্মাণ করেছিলেন। গত সপ্তাহে খালের খনন কাজ শুরু করায় ভবনটিতে ফাটল দেখা দেয় ও হেলে পড়ে। এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে খাল খননের কারণে তার ভবনের পাশে বিজয় কর্মকারের একটি একতলা ভবনসহ আরও পাঁচ-ছয়টি পাকা ঘরে ফাটল ধরেছে।

পাতারহাট বন্দর এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) খাল খনন প্রকল্পের আওতায় মেহেন্দিগঞ্জের পাতারহাট লঞ্চঘাট মাসকাটা নদীর উৎসমুখ থেকে পাতারহাট বন্দরে দিকে প্রবাহিত খালটির সাত কিলোমিটার খননের উদ্যোগ প্রায় দুই বছর আগে নেওয়া হয়। এটি পাতারহাট বন্দরে পণ্যবাহী নৌযান চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি খাল। কয়েকবছর আগে নাব্যতা হারিয়ে শুষ্ক মৌসুমে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকে। গত বছর পাঁচ কিলোমিটার খননের পর অবশিষ্ট দুই কিলোমিটার খননের কাজ শুরু হয় মাসখানেক আগে। কাজ শুরুর পর সরু করে খনন করা হচ্ছিল খালটি। এতে নৌকাও চলতে পারবে না বলে আশঙ্কা করেন পাতারহাট বন্দরের ব্যবসায়ী ও মাঝি-মাল্লারা। খাল আরও প্রশস্ত করে খনন করার দাবি জানিয়ে সম্প্রতি খনন কাজ বন্ধ করে দেন পাতারহাট বন্দর বনিক সমিতি ও মাঝি-মাল্লারা। পাতারহাট বন্দর বণিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর ঠিকাদার খনন কাজ ফের শুরু করেন। তবে এই খননেন ফলে গত সপ্তাহে দুইতলা একটি ভবন হেলে পড়তে শুরু করে। এছাড়া একটি একতলা ভবনসহ কয়েকটি পাকা ঘরে ফাটল দেখা দেয়।


স্থানীয়দের অভিযোগ, সরুভাবে খনন করা হচ্ছে খালটি। খননের পর মাটি খালের পাশেই রাখা হচ্ছে। এতে জোয়ার এলেই মাটি পুনরায় পড়ে গিয়ে খালটি ভরাট হবে। সরু খালে পণ্যবাহী নৌকাও চলতে পারবে না।

উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামান জানান, আজ দুপুরে তিনি খালটি পরিদর্শন করেছেন। পাতারহাট বন্দর সংলগ্ন কিছু অংশে সরু করে খাল খনন করা হচ্ছে। কারণ খালের পাশেই কয়েকটি কাঁচা-পাকা স্থাপনা রয়েছে। খননস্থলের পাশেই দুটি ভবনে ফাটল দেখেছেন। ওই ফাটল আগের নাকি খননের কারণে ফাটল ধরেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি ফিরে এসে সার্বিক বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবহিত করেছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ মো. জামাল উদ্দিন বলেন, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামান সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে ফিরে এসে জানিয়েছেন, খালের পাশে দুইতলা একটি ভবন সামান্য হেলে পড়েছে। আরেকটি একতলা ভবনসহ কয়েকটি পাকা ঘরে কিছুটা ফাটল দেখা গেছে। তাই খালের ওই অংশে আপাতত কাজ স্থগিত রাখতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, খোঁজ নিয়ে যতদূর জানা গেছে ওই ভবন ও বাড়িগুলো খালের জমি দখল করে নির্মিত হয়েছে। খনন শুরুর আগে তিনদিন মাইকিং করে দখলদারদের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কারও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে নির্মিত ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হবে।

খাল সরু করে খনন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খাল খননের কাজ শেষ হয়নি। কোথাও সরু হয়ে থাকলে তা প্রকল্পটির নকশা যেভাবে অনুমোদিত হয়েছে সেভাবেই প্রশস্ত করা হবে। কম-বেশি বা সরু-প্রশস্ত করার সুযোগ নেই।


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ