থমকে রয়েছে বিসিসির উন্নয়ন কাজ

৩০ টি ওয়ার্ড নিয়ে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বরিশাল সিটি কর্পোরেশন। ৩০ জন সাধারণ কাউন্সিলর এবং ১০ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর দায়িত্বে থাকেন, প্রায় ৫ লাখ জনসাধারণের। তবে আশ্চর্য্যরে বিষয় হলো গত তিন বছরে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন খাতে ১ টাকাও বরাদ্দ আসেনি। বসবাসের ছোট্ট এই নগরের উন্নয়নের জন্য প্রধান আর্থিক খাত হচ্ছে হোল্ডিং ট্যাক্স, নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদান করা হলে নগরীর উন্নয়ন করা সম্ভব অনেক অংশেই।
কিন্তু হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া থাকায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কাজ থমকে আছে। যদিও তাদের দাবী নিজস্ব অর্থায়নে নগরীর বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড করছে বিসিসি, তবে বিশাল অংকের রাজস্ব বকেয়া থাকায় কি ধরণের উন্নয়ন করছে বিসিসি তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে।
তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী প্রাপ্ত তথ্য বলে জানা গেছে, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ বরিশাল সিটি কর্পোরেশন ১৬ কোটি ৭৪ লাখ ৪৫ হাজার ৩০২ টাকা পাওনা রয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজ, বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবন, বরিশাল বিআইডাব্লিউটিএ, বিআইডাব্লিউটিসি, বরিশাল সরকারি হাতেম আলী কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি বরিশাল কলেজসহ একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ১৪ কোটি ৯৬ লাখ ৭৫ হাজার ২৫২ টাকা বকেয়া ট্যাক্স রয়েছে।
অপরদিকে বরিশালের বসত বাড়িসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ১ কোটি ৭৭ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫০ টাকা পায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশন। এর মধ্যে বরিশালের অমৃত লাল দে, অফসোনিন ফার্মা, ক্যামিস্ট ফার্মা, ইন্দো বাংলা ফার্মা, ফরচুন সুজ, এ্যাংকর সিমেন্টস, সোনারগাও মিল, এমইপিসহ অসংখ্য নামীদামী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রায় পৌনে ১৭ কোটি টাকা বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স উত্তোলণে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নেই কোন কার্যকরী দৃশ্যমান পদক্ষেপ।
ফলে নগরীর উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। অপরদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ বকেয়া রয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স উত্তোলনের ব্যাপারে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মোঃ ফারুক জানান, বকেয়া প্রতিষ্ঠান গুলোকে আমরা চিঠি দিচ্ছি বকেয়া আদায়ের জন্য। এছাড়াও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এর কাছে বিদ্যু বিভাগ, টেলিফোন সহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠান বকেয়া রয়েছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন এই মূহুর্তে তার কাছে তেমন তথ্য নেই।
এইচকেআর