বরিশাল বোর্ডের ইতিহাসে এইচএসসিতে এবার সর্বোচ্চ পাস

বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে এই বোর্ডে পাসের হার ৯৫ দশমিক ৭৬। বরিশাল বোর্ডের ইতিহাসে এবারই এইচএসসিতে সর্বোচ্চসংখ্যক শিক্ষার্থী পাস করেছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯ হাজার ৯৭১ শিক্ষার্থী, গত বছরের চেয়ে ৪ হাজার ৪০৩ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ বেশি পেয়েছেন। ঘোষিত ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটিতেই ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে।
রোববার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এইচএসসির ফলাফল ঘোষণা করেন শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অরুণ কুমার গাইন। ঘোষিত ফলাফলের বিবরণে দেখা যায়, এ বছর বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা থেকে এই শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ৬৬ হাজার ৭৯৬ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৩২ হাজার ৫৭ এবং ছাত্রী ৩৪ হাজার ৭৩৯ জন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৬৩ হাজার ৯৬৪ জন। মহামারি পরিস্থিতিতে তিনটি বিষয়ের ছয়টি পরীক্ষা হয়েছে। বাকি বিষয়গুলোতে জেএসসি ও এসএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে সাবজেক্ট ম্যাপিং করে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবারের মতো এবারও এই শিক্ষা বোর্ডে ফলাফলে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা পাস ও জিপিএ-৫ এর দিক দিয়ে এগিয়ে আছেন। এবার এই শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯ হাজার ৯৭১ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছেলে ৩ হাজার ৪৮১ জন। আর মেয়েদের এই সংখ্যা ছেলেদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ, ৬ হাজার ৪৯০ জন। আর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাস করেছেন ৬৩ হাজার ৯৬৪ জন। এর মধ্যে ছেলে শিক্ষার্থী ৩০ হাজার ২৮৯ জন, আর মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৩ হাজার ৬৭৫। পাসের হারের দিক থেকেও মেয়ে শিক্ষার্থীরা ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে আছেন।
ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিভাগে পাসের হারের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে বরিশাল জেলা। এই জেলায় পাসের হার ৯৬ দশমিক ৯৩। ঝালকাঠিতে ৯৬ দশমিক ৪০, বরগুনায় ৯৬ দশমিক ৩১, পিরোজপুরে ৯৬ দশমিক ১৫, ভোলায় ৯৪ দশমিক ৫৮ এবং পটুয়াখালীতে ৯৩ দশমিক ৪৬ ভাগ। গত বছর এই শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯০ দশমিক ১০। তবে এবার পাসের হার এবং জিপিএ-৫ দুটোই বেড়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ৪০৩ জন। আর ৫৬টি কলেজে পাসের হার শতভাগ। তবে কোনো কলেজে পাসের হার শূন্য নেই।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অরুণ কুমার গাইন বলেন, ভালো ফলাফলের কৃতিত্ব ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের। আর যারা খারাপ করেছে, তারা মূলত যে তিন বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে সে বিষয়গুলোতে খারাপ করেছে। তবে করোনা মহামারির মধ্যে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে বিঘিœত হয়েছে। এরপরও ফলাফল সন্তোষজনক। শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের চেষ্টা ছিল তার প্রতিফলন ঘটেছে ফলাফলে।
এইচকেআর