ভান্ডারিয়ায় মায়ের লাশ রেখে পরীক্ষায় অংশ নেয়া মোস্তাফিজ পেল এ প্লাস
আজ রবিবার প্রকাশিত এইচ.এস.সি পরীক্ষার ফলাফলে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার আমান উল্লাহ কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মোস্তাফিজুর রহমান গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। ফলাফল পাওয়ার পর অশ্রুশিক্ত কণ্ঠে মোস্তাফিজ জানান, আমার এ সাফল্য দেখে যেতে পারলনা বাবা সাবেক ব্যবসায়ী মরহুম বিপ্লব আকন মা মাটিভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা মরহুমা লায়লা জেসমিন মুন্নী।
বিপ্লব-মুন্নী দম্পতির দুই ছেলের মধ্যে মোস্তাফিজ বড়। ছোট ছেলে মুইন স্থানীয় বিহারী লাল মিত্র পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. কাওসার উদ্দিন জানান, ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ওর মা মারা যায়। সেদিন আমরা গিয়ে মায়ের লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে ওর উপস্থিথিতে জানাজা সম্পন্ন করি। আফসোস এ সাফল্য দেখে যেতে পারেনি ওর বাবা-মা । সবচেয়ে বড় ট্রাজেটি হলো ২০২০সালে অল্প বয়সে ওর বাবা মারা যায়। ২০২১সালের ডিসেম্বরে মারা যায় মা। এবং একই পরিবার থেকে পর পর পাঁচ জন মারা যাওয়া যা অত্যন্ত হৃদয় বিদারক ।
এদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নাসীর উদ্দিন খলিফা জানান, শুধু মোস্তাফিজ ই না ৬৮নং হাই সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সজল কৃষ্ম রায় এর মেয়ে স্বর্ণালী রায় ও আমান উল্লাহ কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে এ প্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। ফলাফল পেয়ে আমাদের শিক্ষা অফিসে এসে অঝোরে কেঁদে কেঁদে বলছিল তার এ সাফল্য তার বাবা দেখে যেতে পারেনি। কারন সম্প্রতি সে পরলোক গমণ করেছেন। এ দুটো ঘটনাই মর্মান্তিক।
এমইউআর