ঢাকা মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম

গৌরনদীতে ইউপি মেম্বারের নেতৃত্বে প্রতিবেশীদের ওপর দুই দফায় হামলা: আহত ১৩

গৌরনদীতে ইউপি মেম্বারের নেতৃত্বে প্রতিবেশীদের ওপর দুই দফায় হামলা: আহত ১৩
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

নেটের বেড়া দিয়ে প্রতিবেশীদের পায়ে হাটার পথ বন্ধ করে দেয়ার প্রতিবাদ করায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী গ্রামে  শুক্রবার সকালে ও দুপুরে স্থানীয় ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে দুই দফা হামলা চালিয়ে দুটি বাড়ি ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ সময় হামলা-পাল্টা হামলা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১৩জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহতদেরকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনলেও ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

হামলায় আহত রিপন বেপারী জানান, উপজেলার বার্থী গ্রামের বাসিন্ধা ও বার্থী ইউপির ১নং ওয়ার্ডের মেম্বর আব্দুল করিম লস্করের বাড়ির উপর দিয়ে কয়ের যুগ ধরে তাদের ও প্রতিবেশীদের পায়ে হাটার গ্রামীন পথ রয়েছে। ওই পথে সম্প্রতি লাইলনের নেট দিয়ে বেড়া দিয়ে পথটিকে আটকে দেন মেম্বরের বড়ভাই আব্দুল কাদের লস্কর। প্রতিবেশীরা

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানালে মেম্বার আব্দুল করিম লস্কর শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে বেড়া খুলে দেন। এর কিছুক্ষন পর বেড়া দেয়া ও খোলা নিয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হন প্রতিবেশী মকবুল বেপারীর স্ত্রী লাকি বেগম (৩০) ও মেম্বর আব্দুল করিম লস্করের স্ত্রী রিনা বেগম (৩২)। তাদের ঝগড়া-ঝাটির এক পর্যায়ে মেম্বর আব্দুল করিম লস্করের নির্দেশে তার ক্যাডার বাহিনীর সদস্য তৌফিক বেপারী (২০), তয়ন বেপারী (২২), সাদ্দাম হাওলাদার, রানা হাওলাদার, নজরুল বেপারী মিলে লাকি বেগমকে ধাওয়া করে। এ সময় তিনি দৌড়ে আমাদের বসত ঘরে আশ্রয় নেন। এর কিছুক্ষন পড়ে আমি বার্থী বাজারের দোকান থেকে প্রতিবেশী ভাতিজা রনি ফকির (১১)কে সাথে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে ওই স্থান দিয়ে বাড়িতে ফিরছিলাম। এ সময় করিম লস্করের নেতৃত্বে ওই সন্ত্রাসীরা আমাদের দুই জনের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে।

এ সময় আমরা থানা পুলিশকে খবর দিলে থানা থেকে পুলিশ আসে। পুলিশের উপস্থিতিতেই তারা আমাদের ওপর পূনঃরায় চড়াও হয়। পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করে। দুপুর ১টার দিকে মেম্বর করিম লস্কর ও তার ক্যাডার বাহিনী এলাকার ও বহিরাগত শতাধীক সন্ত্রাসীকে জড়ো করে তাদের নিয়ে পূনঃরায় আমাদের বাড়িতে অতর্কিতে হামলা চালায়। একই সময় তারা আমার চাচাতো ভাই মকবুল বেপারী ও প্রতিবেশী আব্দুল আজিজ ফকিরের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায় ও আমার মোটর সাইকেলটিকে কুপিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে। এ অবস্থায় আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে আমাদের পক্ষের আমার মা হামিদা বেগম (৭০), মেজভাই জুলহাস বেপারীর স্ত্রী জুলেখা বেগম (৩০), চাচাতো ভাই মকবুল বেপারীর স্ত্রী লাকি বেগম (৩০), প্রতিবেশী শাজাহান ফকিরের স্ত্রী রওশন আরা বেগম (৪৫), কালু ফকিরের ছেলে রনি ফকির (১১), মৃত মোনছের ফকিেের ছেলে আজিজ ফকির (৫৫), সন্ত্রাসীদের দায়ের কোপে গুরুতর আহত হয়।

মেম্বার আব্দুল করিম লস্কর জানান, সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষ রিপন বেপারীর গ্রুপের হামলায় তার গ্রুপের তার স্ত্রী রিনা বেগম (৩২), তোরাপ হাওলাদাদারের স্ত্রী মিনি বেগম (৫০), কন্যা লাবনী আক্তার (১৭), মৃত মোসলেম সরদারের ছেলে সালাম সরদার (৩৪), মোঃ জামাল সরদারের ছেলে মোঃ রিয়াজ সরদার (২০), শামচু পালোয়ানের ছেলে বখতিয়ার পালোয়ান (৩৩) আহত হয়।

আহতদের মধ্যে মেম্বর করিম লস্কর গ্রুপের আহতদেরকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও রিপন বেপারী গ্রপের আহতদেরকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলার সত্যতা স্বীকার করে মেম্বর আব্দুল করিম লস্কর বলেন, আমি বেড়াটি খুলতে গেলে প্রতিবেশী লাকি বেগম আমাকে গালাগালি করে। উত্তর না দিয়ে আমি এসে আমার স্ত্রীকে সেখানে পাঠাই। তখন ওরা ৪-৫ জন মিলে আমার স্ত্রীকে মারধর করে। পরে আমার লোকজন গেছে, পোলাপান এসে যখন জানতে পারে আমার স্ত্রীর গায়ে হাত দিছে তখন ওরা গেছে ওদের চোখে মুখে তখন ওরা মরিচের গুড়া ছিটিয়ে ওদের ৫-৬ জনকে কুপিয়ে আহত করে। পড়ে পোলাপান গিয়ে ওদের না পেয়ে ঘর বাড়ি একটু টাকাইয়া টুকাইয়া রেখে আসে।

হামলা ও সংঘর্ষের সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. আফজাল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। বর্তমানেও পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। তবে এখনও কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে

 


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ