নায়েক কারাগারে : মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর অভিযোগ বোনদের

মিথ্যে অভিযোগ তুলে ভাইকে চাকুরি থেকে বরখাস্তকরন, মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো ও পরিবারের অন্য সদস্যদের হয়রানি করার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে দুই বোন।
বৃহষ্পতিবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল রিপোটার্স ইউনিটি (বিআরইউ)’র বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহান আরা বেগম স্মৃতি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ভাইয়ের স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর ক্ষুদ্রকাঠী এলাকার বাসিন্দা জান্নাত ও লিমা। লিখিত বক্তব্য পাঠকালে জান্নাত বলেন, বরিশাল সদরের উত্তর কড়াপুর এলাকার জেসমিন আক্তারের সাথে ২০১৬ সালে বিয়ে হয় আমার ভাই আরিফুর রহমানের।
তাদের সংসারে ৪ ও দেড় বছর বয়সী দুটি শিশু সন্তান রয়েছে। আমার ভাই আরিফুর রহমান বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের নায়েক হিসেব কর্মরত ছিলেন। তবে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ তোলেন তার স্ত্রী। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ভাই আরিফুর রহমানকে চাকুরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে পর পর তিনটি মামলা দায়ের করেন সন্ত্রী জেসমিন। যার একটি মামলা পরিবারের সদস্য অর্থাৎ আমাদেরও আসামী করা হয়। অথচ যে সব অভিযোগ তোলা হচ্ছে সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যে ও বানোয়াট।
আর ২০১৩ সালের একটি মিথ্যে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে বিবাহের হলফনামা তৈরি করে তা দিয়েও মামলা করা হয়েছে আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে। অথচ ২০১৬ সালের কাবিনের সাথে সেই নোটারির তথ্যের বিভিন্ন জায়গায় গড়মিল রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরিফের দুই বোন জান্নাত ও লিমা জানান, সম্প্রতি আরিফুর রহমানকে বাবা-মাসহ আমাদের সাথে যোগাযোগ না করার জন্য সর্ত দেয় জেসমিন আক্তার।
এমনকি বাবা-মায়ের ভরণ পোষন না করা, বোনদের বিবাহের কাজে না যাওয়া, টাকা পয়সা না দেয়া, গ্রামের বাড়ির জমি বিক্রি করে শহরে স্ত্রী জেসমিনের নামে বাড়ি করে দেয়াসহ বেতনের টাকা হাতে তুলে দেয়ার জন্যও চাপ দেয় জেসমিন আক্তার। আর তার কথা না শুনলে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়া হয় ভাই আরিফুর রহমানকে।
তাদের দাবি আরিফের পারিবারিক শত্রুদেও সাথে হাত মিলিয়ে জেসমিন ষড়যন্ত্র করে একের পর এক মিথ্যে মামলা দিয়ে যাচ্ছে। আর পরিবারের সন্মান হানী করার জন্য মিথ্যে তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে হয়রানিও করানো হচ্ছে। এ থেকে পরিত্রাণ চায় আরিফের দুইবোন ও পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে আরিফের স্বজন ইউনুস ও রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এদিকে নারী নির্যাতন মামলায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বরখাস্ত হওয়া নায়েক আরিফুর রহমানকে গত মঙ্গলবার জেলহাজতে প্রেরণ করেছে আদালত। তখন বাদী জেসমিন জানিয়েছিলেন, আরিফুর রহমানের সঙ্গে ২০১৩ সালে বিয়ে হয়। তাদেও সংসারে দুইটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের কয়েক বছর পর থেকেই যৌতুক চেয়ে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতো আরিফুর।
এর বিচার চেয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেন। এরপর দাবিকৃত যৌতুক না পেয়ে নভেম্বর মাসে আরিফুর আরেকটি বিয়ে করেন। গত অক্টোবর মাসের ৭ তারিখ আদালতে হাজির হয়ে আসামী আরিফুর মামলা থেকে জামিন নেন।
জামিন পাওয়ার পরের দিন বাদী জেসমিনের বাড়িতে গিয়ে তাকে মারধর করেন আরিফুর। সেই প্রেক্ষিতে বাদী বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামীর জামিন বাতিলের আবেদন করেন। আদালতের বিচারক নায়েক আরিফুর রহমানের জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। পরে হাইকোর্ট থেকে জামিনে ছিলেন আরিফ। জামিনের মেয়াদ শেষ হলে মঙ্গলবার আবারো জামিন বাতিলের আবেদন করেন নায়েক আরিফ। কিন্তু আদালতের বিচারক তার আবেদন না মঞ্জুর কওে ফের কারাগারে প্রেরণ করেন।
এসএমএইচ