অর্থাভাবে ১২ বছর শেকলবন্দি প্রতিবন্ধী জসীম

বরিশালের হিজলা উপজেলায় জসীম উদ্দীন (৩৫) নামের এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবককে ১২ বছর ধরে শিকলে বন্দী করে রাখা হয়েছে। অর্থাভাবে চিকিৎসা করানো যাচ্ছেনা বলে তাকে শিকলে বন্দী রাখা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। প্রতিবন্ধী জসীম উদ্দীন হিজলা উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের খাগেরচর গুচ্ছ গ্রামের হামিদ হাওলাদারের ছেলে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গুচ্ছ গ্রামের একটি পরিত্যাক্ত ঘরে পায়ে শিকল দিয়ে বন্দী করে রাখা হয়েছে জসীম উদ্দীনকে। পায়ের সাথে শেকলে ঝুলছে একটি তালা। খাবার খাওয়ানো হচ্ছে ওই ঘরেই।
স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক বেপারী বলেন, ‘মানসিক প্রতিবন্ধী জসীম একসময় স্বাভাবিক জীবন যাপন করেছে। হঠাৎ করে বিরুপ আচরণ শুরু করে সে। তখন তার জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু অর্থাভাবে পরিবার সেটা করাতে না পেরে শেকলে বন্দী করে রেখেছে।
জানা গেছে, প্রতিবন্ধী জসীম উদ্দীনের বাবা হামিদ হাওলাদার একজন দিনমজুর। কাজ না করলে ঘরে পরিবারের সদস্যদের আহার বন্ধ। আলাপকালে হতদরিদ্র এই বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘পাগল পোলাডা লইয়া বিপদে আছি, মুই রোজগার করতে পারি না, মোর বড় পোলার আয় দিয়া সোংসার চলে। সরকারের এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে কোনো হরম জীবন কাইট্টা যায়’।
হামিদ হাওলাদার আরও বলেন, ‘ডাক্তার দেহাইছি, ডাক্তারে কইছে উন্নত চিকিৎসা করলে ও ভালো অইয়া যাইবে। কিন্তু ওরে উন্নত চিকিৎসা কেমনে করামু? টাহা পামু কই?। ছাড়া থাকলে ও মানসেরে একছের জ্বালায়। হেইতে ঘরের মধ্যে শিকল দিয়া আটকাইয়া থুইছি’।
এদিকে, উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের খাগেরচরের ইউপি সদস্য হামিম মাতুব্বর বলেন, ‘মানসিক প্রতিবন্ধী জসীম উদ্দীন একসময় একটি মসজিদে ইমামতি করতো। বিয়ের পরে একটি সন্তানও হয়েছে। এরপর জানতে পারি জসীম পাগল হয়ে গেছে। সেই থেকেই ছেলেটি গৃহবন্দী।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন বলেন, ওই ছেলেটি ‘মানসিক প্রতিবন্ধী’ কিনা সেটা আমি অবগত নই। আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমেই জানতে পারলাম। কেউ তার বিষয়ে আমাকে জানায়নি।
হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বকুল চন্দ্র কবিরাজ বলেন, ‘শিকলে বন্দী বা মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ার বিষয় সম্পর্কে কেউ আমাকে কিছু জানায়নি। এখন যখন জানতে পারলাম, আমি তার বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে দেখবো। সরকারিভাবে সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা করবো।
কেআর