সিঙ্গাপুরে থেকে বেতন-ভাতা তোলেন মাদ্রাসার অফিস সহকারী

বরিশালের মুলাদীতে ইসলামাবাদ নেছারিয়া আলিম মাদ্রাসার এক অফিস সহকারী বিদেশে অবস্থান করেই চাকরি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সে দেশে না থাকলেও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত আরাফাত হোসেন ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাও. ইয়াসিন মুনিরের ছেলে। তাই প্রবাসে থেকেও তার চাকরি বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৪-৫ বছর আগে অধ্যক্ষ মাদ্রাসাটিকে আলিম স্তরে উন্নীত করার জন্য চেষ্টা শুরু করেন। ওই সময় আলিম স্তরের জন্য কিছু শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের সঙ্গে নিজের সিঙ্গাপুর প্রবাসী ছেলে আরাফাত হোসেনকেও অফিস সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেন। পরবর্তীতে মাদ্রাসাটি আলিম স্তরে এমপিওভুক্ত হলে আরাফাত হোসেন সিঙ্গাপুর থেকে ছুটি নিয়ে দেশে আসেন।
২০২১ সালের প্রথম দিকে কয়েক মাস মাদ্রাসায় দাফতরিক কাজ করেন। সেই সময় সরকারি বেতন ভাতা উত্তোলন করেছেন। পরবর্তীতে ওই বছরের মে-জুন মাসে আবার সিঙ্গাপুর চলে যান আরাফাত। বিদেশ যাওয়ার পরেও মাদ্রসার ওই পদটি শূন্য করা হয়নি। নতুন কোনো অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। সেই হিসেবে আরাফাত এখন পর্যন্ত মাদ্রাসায় কর্মরত রয়েছেন।
এ ব্যাপারে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাও. ইয়াসিন মুনির বলেন, আরাফাত হোসেন আমার ছেলে এবং মাদ্রাসার অফিস সহকারী হিসেবে চাকরি করছে। সে চিকিৎসার জন্য ছুটি নিয়ে সিঙ্গাপুর গিয়েছে। বর্তমানে তার বেতন-ভাতা স্থগিত রাখা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে মাদ্রাসায় যোগদান করতে পারে। তবে কতদিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে কিংবা কবে দেশে ফিরবে সে বিষয়ে কোনো কিছু জানাননি অধ্যক্ষ।
মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ও উপজেলা জাতীয় পার্টি সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলর আরিফ হোসেন সরদার বলেন, মাদ্রাসার অফিস সহকারীর প্রবাসে অবস্থান করার বিষয়টি আমার জানা নাই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, প্রবাসে অবস্থান করে মাদ্রাসায় চাকরি করার বৈধতা নেই। ইসলামাবাদ নেছারিয়া আলিম মাদ্রাসার অফিস সহকারীর বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি আমাদের জানা নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এইচকেআর