ঢাকা সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

Motobad news

এমপি শাহে ‍আলমের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন, এমপি বললেন ষড়যন্ত্র

এমপি শাহে ‍আলমের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন, এমপি বললেন ষড়যন্ত্র
এমপি শাহে ‍আলমের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন ‍একটি পরিবার
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

মুরগীর খামার করতে বরিশালের বানারীপাড়া ‍উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের ১২টি পরিবারকে জিম্মি করে পৈত্রিক ভিটা থেকে ‍উচ্ছেদ চেষ্টার অভিযোগ ‍উঠেছে বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য শাহে আলমের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ তুলে ধরেন নির্যাতনের শিকার পরিবারটি।

তারা অভিযোগ করেন, জোর করে জমি রেজিস্ট্রি করে নিতে সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত একটি পরিবারকে জিম্মি করা হয় এমপির নির্দেশে। শেষে ৯৯৯ নম্বরে কল করলে অবরুদ্ধ পরিবারকে উদ্ধার করে জিম্মিকারী দুই যুবককে আটক করে পুলিশ। তবে রাতেই তাদের ছেড়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে। সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার উদয়কাঠি ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড পশ্চিত তেতলা গ্রামে।

যদিও অভিযুক্ত সংসদ সদস্য শাহে আলম দাবি করেছেন, জিম্মি করে জমি দখল নয় বা তার জমিও আমি কিনতে চাইনি। বরংছ ওই পরিবারটি আমার কাছে এসেছিল যেন তার জমি আমি কিনে রাখি। তার জমির মূল্য ৬ লাখ টাকা হলেও আমি ১৪ লাখ টাকা দিতে চেয়েছি। ‍এ নিয়ে ‍আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রতন ঘরামী বলেন, সোমবার (২৪ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে সংসদ সদস্য শাহে আলমের ব্যক্তিগত ম্যানেজার আল আমিন, ওয়ার্ড মেম্বার ইব্রাহীম, তুহিন গাজী, ইলিয়াস খান রতন ঘরামির ঘরে এসে আটকে রাখে। তারা রতন ঘরামির ৫০ শতাংশ জমি এমপির মুরগীর খামারের জন্য বিক্রি করতে চাপ প্রয়োগ করেন। এমনকি রাতে যেন রতন ঘরামী কোথাও পালিয়ে না যায় এজন্য ইলিয়াস ও তুহিন গাজী রতন ঘরামির ঘরে রাত যাপন শুরু করেন।

রতন ঘরামি বলেন, খবর পেয়ে আমার আত্মীয় স্বজন ৯৯৯ নম্বরে কল করলে রাত ২টা ২০ মিনিটের দিকে বানারীপাড়া থানা পুলিশ জিম্মি দশা থেকে আমাদের মুক্ত করে থানায় নিয়ে যায়। সেইসাথে আমাদের জিম্মিকারী এমপি শাহে আলমের দুই লোক ইলয়াস ও তুহিন গাজীকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। কিন্তু তাদের পুলিশ সকালে ছেড়ে দেন। শেষে আমরা প্রাণ রক্ষায় বরিশাল পালিয়ে এসেছ। এখন আমার পরিবার এবং জমি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।

রতন ঘরামী আরও বলেন, এই ঘটনার ১৫ দিন আগে এমপি শাহে আলম আমাকে তার বাসায় ডেকে নিয়ে বলে ‘তোর জায়গায় আমি একটি প্রজেক্ট করবো। তোর জমি আমাকে লিখে দে।’ তিনি বলেছেন, কিছু টাকা নিয়ে যা। আমি বলে এসেছি, জমি আমি বিক্রি করবো না। এরপর থেকেই তার লোকজন আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। আমাকে বলেছে, এমপিকে জিমি লিখে না দিলে প্রানে শেষ করে দিবে। লাশও খুঁজে পাবে না পরিবার। তাদের হুমকিতে আমি অসুস্থ হয়ে পরি। সাধারণত নিজের ঘর থেকেও বাইরে বের হই না।

তিনি বলেন, আমার দাবী আমি আমার জমিতে ঘর তুলবো। সেখানে ইটও নিয়েছি। কিন্তু এমপির লোকের বাধায় তা করতে পারছি না। এমপির লোকেরা নিয়মিত গিয়ে হুমকি দিয়ে আসে আমি এমপি শাহে আলমকে জমি লিখে না দিলে আমাকে মেরে ফেলবে। এভাবে হিন্দুদের ১২টি পরিবারকে সে জমি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।

বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল পুলিশ। সেখানে এক খন্ড জমি বিক্রির বিষয় নিয়ে ঝামেলা ছিল। ঘটনাটি অত্যান্ত ছোট। যারা কল করেছিল তাদের নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। তবে সংসদ সদস্য জমি লিখে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে এমন কোন অভিযোগ তারা আমাদের কাছে করেনি।

রতন ঘরামীর ভাগনে সুমন রায় বলেন, সোমবার রাতে এমপি শাহে আলমের লোকজন আমার মামার বাড়িতে গিয়ে ওঠে এবং সকাল হলেই জমি রেজিস্ট্রি করার জন্য হাত-পা বেধে নিয়ে যাবেন বলে জিম্মি করেন। আমরা কয়েকটি হিন্দু পরিবার ঘর ছেড়ে পালিয়ে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে আশ্রয় নেই। শেষে ৯৯৯ নম্বরে কল করলে পুলিশ এসে তুহিন গাজী ও ইলিয়াস খানকে আমার মামার বাড়ি থেকে আটক করে নিয়ে যান। কিন্তু এমপির চাপে তাদের সকালে ছেড়ে দেন পুলিশ।

সুমন রায় বলেন, শুনেছি এমপি শাহে আলম খামার করবেন। এজন্য ১০ বিঘা জমি কিনেছেন। এখন আরও জমি লাগবে। তাই তিনি হিন্দুদের জমি জোর করে দখলের চেষ্টা করছেন।

বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য শাহে আলম বলেন, তারা যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। মূলত সরকােিরতেতলা গ্রামে আমার দাদার বাড়ি। সেখানে সরকারি প্রকল্পের একটি মুরগীর খামার করবো। এজন্য কিছু জমি আমি কিনেছি। আরো কিছু জমি লাগবে। আমি রতনের জমি ক্রয় করতে চাইনি। বরংছ সেই আমার কাছে এসেছিল জমি বিক্রি করতে। সে বলেছে দ্মা ৬ লাখ। আমি বলেছি তাকে ১৪ লাখ টাকা দিব।

এমপি শাহে আলম আরও বলেন, কাউকে জিম্মি করার প্রশ্নই ওঠে না। কেউ জমি বিক্রি করতে না চাইলে আমার সেখানে প্রজেক্ট করার কোন দরকার নেই। আমি চেয়েছিলাম, ওখানে প্রজেক্ট করলে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। আমি আমার লোকদের মোবাইলে জানিয়েছি, রতনের জমি ক্রয়ের কোন দরকার নেই।

শাহে আলম বলেন, বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে কেউ নেপথ্যে থেকে কলকাঠি নাড়ছে কিনা তা বুঝে উঠতে পারছি না। এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা বলেন, ব্যাক্তির দায় কখনোই আওয়ামী লীগ নিবে না। এমপি যা করছেন তা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার।

অপরদিকে, বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বলেন, ‘এটি ‍একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে মনে হচ্ছে। ‍এমপি শাহে ‍আলম নিজের সংসদীয় ‍এলাকার অনেক ‍উন্নয়ন করেছেন ‍এবং তা ‍এখনো অব্যাহত রয়েছে। ‍এটা সহ্য করতে না পেরেই কেউ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে পারে।


কেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন